আম নিয়ে আমজনতার উৎসাহের সত্যিই কোনো শেষ নেই। গরমের অসহ্য দিনগুলোও অনেকটা সহনীয় হয়ে ওঠে এই ফলের টানে, তাই গ্রীষ্মকাল এলেই আমের জন্য আলাদা একটা অপেক্ষা তৈরি হয়। ভারতের নানা প্রান্তে নানা ধরনের আম পাওয়া যায়, আর প্রতিটি জাতেরই রয়েছে নিজস্ব স্বাদ ও গন্ধ, যা একেবারে মৌলিক এবং মন ভালো করে দেওয়ার মতো।
উত্তরপ্রদেশ আম উৎপাদনে ভারতের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। সেখানকার ল্যাংড়া, চৌসা এবং দশেরি আম দেশজুড়ে খুবই বিখ্যাত। অন্যদিকে গুজরাটের গির কেশর আমেরও বিশেষ কদর রয়েছে তার স্বাদ ও গন্ধের জন্য। মহারাষ্ট্রের আলফানসো আমকে তো প্রিমিয়াম জাতের মধ্যে অন্যতম ধরা হয়।
কর্ণাটকে তোতাপুরি এবং বাদামি আলফানসো আম বেশ জনপ্রিয়। ভারতে আম উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ, এরপর কর্ণাটকের অবস্থান। এছাড়াও তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র এবং বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আম উৎপাদন হয়।
বাংলার বিখ্যাত আমের জাত
বাংলায় আমের ফলন অন্য কিছু রাজ্যের মতো বিশাল পরিসরে না হলেও এখানকার আমের স্বাদ ও জনপ্রিয়তা আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। বাংলার হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি বা লক্ষ্মণভোগ আমের নাম দেশজুড়ে বেশ পরিচিত। এছাড়া এখানে আরও নানা ধরনের আম পাওয়া যায়, যেগুলো স্থানীয়ভাবে “দেশি আম” নামে পরিচিত। স্বাদ, গন্ধ আর রসাল বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলার আমও আমপ্রেমীদের কাছে বেশ পছন্দের একটি ফল হিসেবে বিবেচিত হয়।
মালদা কেন বলা হয় “আমের শহর”
বাংলার আমের প্রতিটি জাতেরই আলাদা স্বাদ ও গন্ধ রয়েছে। এই রাজ্যের মধ্যে মালদা জেলা আম উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত, যেখানে সবচেয়ে বেশি আম চাষ হয়। মালদার বিস্তীর্ণ আমবাগান তার সৌন্দর্য ও উৎপাদনের জন্য নজর কাড়ে, তাই একে অনেকেই ভারতের “আমের শহর” বলেও অভিহিত করেন।
দেশজুড়ে নানা প্রজাতির বিখ্যাত আমের ভিড়ে মালদার এই পরিচিতি বাংলার জন্য সত্যিই গর্বের বিষয়। প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে এখানে আম চাষ হয়, এবং বহু পরিবার সরাসরি এই চাষের সঙ্গে যুক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
