অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে উৎসাহ ক্রমশ বাড়ছে (Annapurna Bhandar)। সরকারি সূত্রের খবর, আগামীকাল ৩ জুন থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Medinipur) জেলা থেকে ২ লক্ষ ৮ হাজার ৫০০ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবারের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বিপুল সংখ্যক আবেদন যাচাই ও ডেটাবেস প্রস্তুত করার কাজ শেষ করতে প্রশাসনিক কর্মীদের ব্যাপক চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ফর্ম জমা দিতে গিয়ে বিপাকে কর্মীরা (Annapurna Bhandar)
সূত্রের খবর, জেলার ২৫টি ব্লক এবং পাঁচটি পৌরসভা এলাকায় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) প্রকল্পের ফর্ম বিতরণ ও জমা নেওয়ার কাজ জোরকদমে চললেও কর্মীদের একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল আবেদনপত্রটি ১৩ পাতার হওয়ায় সাধারণ মানুষের তা পূরণ করতে অনেকটা সময় লাগছে। অনেকেই বিভিন্ন তথ্য ও নথিপত্রের বিষয় বুঝতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। এর পাশাপাশি জমা পড়া বিপুল সংখ্যক অফলাইন ফর্মের তথ্য কম্পিউটারে আপলোড করার সময় সার্ভার-জনিত সমস্যাও কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গত রবিবার জেলা সফরে আসেন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব সুরেন্দ্র গুপ্তা। তিনি তমলুক, সুতাহাটা এবং কোলাঘাটে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং দ্রুত উপভোক্তাদের তালিকা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেন। এরপর সোমবার সকাল থেকেই জেলাজুড়ে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বেড়ে যায়। তবে শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের খারুই ১ গ্রাম পঞ্চায়েতে ফর্ম বিতরণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভিড় ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকেও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বাদ পড়ছেন ১ লক্ষ মহিলা
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) প্রকল্পের কাজ যখন শেষ পর্যায়ে, তখন পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা নিয়েও বড়সড় পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় মোট ১৪ লক্ষ ২৮ হাজার উপভোক্তার মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ নাম বাদ যেতে পারে। অতিরিক্ত জেলা শাসক প্রভাত চট্টোপাধ্যায়ের মতে, যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গিয়েছে প্রায় ৭১ হাজার উপভোক্তা মৃত, অন্যত্র স্থানান্তরিত বা ডুপ্লিকেট ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
এছাড়াও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে আরও প্রায় ৫ হাজার উপভোক্তার নাম তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। এর পাশাপাশি যাঁদের বয়স ৬০ বছর অতিক্রম করেছে, তাঁদেরও বর্তমান উপভোক্তা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতেই এই তালিকা সংশোধনের কাজ করা হচ্ছে।
