Homeপ্রকল্পসরকারি প্রকল্পবাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) প্রকল্পে কড়া যাচাই, বিশেষ অ্যাপ চালু করল রাজ্য সরকার

বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) প্রকল্পে কড়া যাচাই, বিশেষ অ্যাপ চালু করল রাজ্য সরকার

-

‘বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ)’ প্রকল্পকে ঘিরে অতীতে কিছু অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যে কিছু অযোগ্য ব্যক্তি ভুলভাবে সরকারি সুবিধা পেয়েছেন। সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর (Government of West Bengal) কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। সোমবার সমস্ত জেলাশাসকের কাছে পাঠানো এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, প্রকল্পের উপভোক্তাদের নাম ও পরিচয় নতুন করে বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হবে, যাতে সত্যিকারের যোগ্য ব্যক্তিরাই সুবিধা পান এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) প্রকল্পে নতুন যাচাই প্রক্রিয়া

নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ‘বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ)’ চালু হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষ ও সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহল থেকে লাগাতার অভিযোগ আসছিল যে বহু অযোগ্য ব্যক্তি এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে তদন্তে সেই অভিযোগের সত্যতাও প্রমাণিত হয়েছে এবং বেআইনিভাবে নেওয়া অর্থও উদ্ধার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাতে আর কেউ অন্যায়ভাবে প্রকল্পের সুবিধা নিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এবার আরও কড়া অবস্থান নিচ্ছে রাজ্য সরকার।

- Advertisement -

নির্দেশিকায় জেলাশাসকদের ‘ফুল রি-ভেরিফিকেশন’ বা পুনরায় সব যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। আগামী ৩০ মে-র মধ্যে পুরো কাজ শেষ করতে হবে। যদি দেখা যায়, কেউ অনৈতিক ভাবে প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকায়। পাশাপাশি ২০২৬ সালের SIR-এর ASDD (সন্দেহজনক, ডুপ্লিকেট বা অসঙ্গতিপূর্ণ) তালিকাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

অনিয়মের অভিযোগ ও সরকারের পদক্ষেপ

কয়েক দিনের মধ্যেই যাচাই-বাছাইয়ের পুরো কাজ শেষ করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন মডিউল তৈরি করেছে। ওই অ্যাপ কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, তা বোঝাতে অতিরিক্ত জেলাশাসক, ডিএনও এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর একটি ভার্চুয়াল বৈঠকও করেছে। এবার প্রশাসনিক কর্মী ও আধিকারিকরা মাঠে নেমে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করার কাজ শুরু করবেন। প্রয়োজনে মহকুমা ও ব্লক স্তরে বিশেষ পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করা হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ)’ প্রকল্পে গৃহহীন, কাঁচা বা জরাজীর্ণ বাড়িতে যে সব পরিবার কোনও রকমে দিন কাটান, তাঁদের পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য তাঁদের মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেয় রাজ্য সরকার। প্রথম দফায় বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করার জন্য ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। আর দ্বিতীয় দফায় ছাদ ঢালাই বা পরবর্তী কাজের জন্য দেওয়া হয় আরও ৬০ হাজার টাকা।

- Advertisement -
- Advertisement -
Breaking News
- Advertisement -
Related Stories
- Advertisement -