সাদিকুল খান , কলকাতাঃ মহারাষ্ট্রে রাস্তা নির্মাণের মান নিয়ে উঠল বড় প্রশ্ন। প্রায় ১৮ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি রাস্তা মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ধসে পড়েছে। রাস্তার মাঝখানে তৈরি হয়েছে ১০ ফুটেরও বেশি গভীর বিশাল গর্ত। এমনকী পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, নির্মাণকারী সংস্থার একটি ট্রাকও সেই গর্তে আংশিকভাবে আটকে যায়।
ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার ডাহানু এলাকার। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা বা PMGSY-এর আওতায় তৈরি করা হয়েছিল ১৫.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ Sarani-Urse-Aina Road। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই রাস্তার একটি বড় অংশ আচমকা বসে যায়। ফলে রাস্তার মাঝখানে তৈরি হয় বিশাল গর্ত, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে রাস্তা নির্মাণের মান নিয়ে।
১৮ কোটি খরচের রাস্তার এই হাল কেন?
রাস্তা তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ কোটি। কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই রাস্তা ধসে পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তা তৈরির সময় থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং নির্মাণকাজের গুণমান নিয়ে তাঁরা আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে বারবার অভিযোগ করা হলেও সেই সময় প্রশাসনের তরফে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
রাস্তা ধসে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাস্তা নির্মাণের গুণমান খতিয়ে দেখা হোক এবং কাজে কোনও অনিয়ম বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হোক।
রাস্তা তৈরির তিন মাসেই বিপত্তি
সাধারণত নতুন রাস্তা তৈরির পর দীর্ঘদিন সেটি ভালো থাকার কথা। কিন্তু ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি ১৫.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার একটি অংশ মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ধসে পড়ায় রাস্তার নির্মাণমান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন মূল প্রশ্ন, রাস্তা তৈরির ক্ষেত্রে কোথাও প্রযুক্তিগত বা নির্মাণগত গাফিলতি হয়েছিল কি না, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল কি না। স্থানীয়দের অভিযোগ সত্যি হলে, সেই অভিযোগের পরও কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের নজর তদন্তের দিকে।
