সাদিকুল খান, কলকাতাঃ সাইবার অপরাধীদের ভিপিএস (ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার) পরিষেবা দেওয়ার অভিযোগে হরিয়ানার এক ওয়েব ডেভেলপারকে আটক করেছে সাইবার পুলিশ। ভিপিএস আসলে একটি ভার্চুয়াল সার্ভারের মতো, যেখানে ওয়েবসাইট বা অ্যাপ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন ফাইল ও তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তির দেওয়া ভিপিএস ব্যবহার করেই প্রতারকরা ক্ষতিকারক APK ফাইল রাখত। পরে সেই ফাইল সাধারণ মানুষের কাছে পাঠিয়ে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হত। ৩২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করেছেন। মুম্বইয়ের কাফ প্যারেড এলাকায় গ্যাস বিল আপডেট করার নামে এক প্রবীণ নাগরিকের কাছ থেকে ১৭ লক্ষ টাকা প্রতারণার ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের নজরে আসে তাঁর এই যোগসূত্র।
১৩ টাকার বিল আপডেটের ফাঁদে ১৭.৪ লক্ষ টাকা খোয়ালেন বৃদ্ধা
জুলাই মাসে সঞ্জয় মিশ্র নিজেকে ‘মহানগর গ্যাস লিমিটেড’-এর কর্মী পরিচয় দিয়ে কাফ প্যারেডের ৭৫ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করেন। তিনি জানান, আগের গ্যাস বিল জমা দেওয়ার তথ্য সিস্টেমে আপডেট হয়নি। সেই তথ্য আপডেট করতে মাত্র ১৩ টাকা জমা দিতে হবে। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে ওই বৃদ্ধা পাঠানো লিঙ্কে ক্লিক করেন। লিঙ্কটিতে একটি ক্ষতিকারক APK ফাইল ছিল, যা ক্লিক করার পরই তাঁর ফোনে ডাউনলোড হয়ে যায়। এরপর প্রতারক তাঁর ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন বলে অভিযোগ। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই বৃদ্ধার ফোনে ব্যাংকের মেসেজ আসে, যাতে জানানো হয় তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ১৭.৪ লক্ষ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০-এ ফোন করে অভিযোগ জানান।
KYC ছাড়াই ১,১০০ জনকে VPS পরিষেবা দেওয়ার অভিযোগ
৩০ জুলাই সাউথ রিজিয়ন সাইবার থানায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়। এরপর ডিসিপি বজরং বনসোডের নেতৃত্বে তদন্তকারীরা ক্ষতিকারক APK ফাইলটি নিয়ে বিস্তারিত প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু করেন। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই হরিয়ানায় থাকা অভিযুক্তের সন্ধান পান তাঁরা। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো ধরনের KYC বা গ্রাহক পরিচয় যাচাই না করেই বিভিন্ন ব্যক্তিকে VPS পরিষেবা দিতেন। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১,১০০ জনকে এই পরিষেবা দেওয়ার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ফাইলের আকার অনুযায়ী প্রতিটি VPS পরিষেবার জন্য তিনি ২,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত নিতেন বলে অভিযোগ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তাঁর দেওয়া VPS ব্যবহার করে যে প্রতারণামূলক কাজ চলছিল, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন। বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তি তালোজা জেলে রয়েছেন। তাঁর ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। সেগুলিতে থাকা তথ্য খতিয়ে দেখছেন সাইবার গোয়েন্দারা।
