এবার স্কুলে ফিঙ্গারপ্রিন্টে হাজিরা! বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার

-

পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করে তুলতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের অনেক সরকারি স্কুলে পরিকাঠামোর অভাব, শিক্ষক সংকট এবং ছাত্রছাত্রীর কম উপস্থিতি নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও ছাত্রছাত্রী নেই বললেই চলে, আবার কোথাও পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে স্কুল শিক্ষায় বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। রবিবার এক অনুষ্ঠানে স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ জানান, সরকারি স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি বাড়ানো, শিক্ষার মান উন্নত করা এবং স্কুলগুলিকে আরও সক্রিয় করে তুলতে সরকার শীঘ্রই একাধিক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

রাজ্যের স্কুলগুলিতে উপস্থিতি বাড়াতে সরকারের নয়া সিদ্ধান্ত

রবিবার ‘অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ’-এর ১১তম জেলা সম্মেলন উপলক্ষে জলপাইগুড়ি আর্ট গ্যালারিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ এবং প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। সেখানেই শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেন, সরকারি স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শীঘ্রই বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম (Biometric Attendance System) চালু করা হবে। তাঁর বক্তব্য, এই ব্যবস্থা চালু হলে উপস্থিতির হিসাব রাখার অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা অনেকটাই মুক্তি পাবেন এবং ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, শুরু থেকেই পড়ুয়াদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে যে নির্ধারিত উপস্থিতির হার পূরণ না হলে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়ানো এবং শিক্ষার মান উন্নত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

- Advertisement -

এর পাশাপাশি, স্কুলগুলিতে নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটানোর জন্যও উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। মন্ত্রী এদিন আশ্বাস দেন যে সব স্কুলে যথাসময়ে শিক্ষকদের নিয়োগ করা হবে। এছাড়া, রাজ্যের ১,০০০টি স্কুলে অত্যাধুনিক ল্যাব তৈরি হবে বলেও ঘোষণা করা হয় এদিন। এর জন্য স্কুলগুলিকে ২০ লক্ষ টাকা করে দেবে সরকার। প্রাথমিক স্কুলগুলিতে কমপক্ষে ৩ জন শিক্ষক থাকতেই হবে। এরসাথেই আপার প্রাইমারি (Upper Primary) স্কুলগুলিকে হাইস্কুলের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া বা মার্জ করার কথাও বিবেচনা করে দেখছে সরকার।

এছাড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ জনগণনা (Census) সংক্রান্ত বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অন্যান্য কর্মীদের জনগণনার কাজে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। ফলে জনগণনার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যাতে স্কুলের নিয়মিত পঠনপাঠন ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়েও সরকার পরিকল্পনা করছে। মন্ত্রীর বক্তব্য, প্রয়োজনে স্কুলের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে সকালবেলায় ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন জনগণনার কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও কোনও প্রভাব পড়বে না। সরকারের লক্ষ্য, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা।

🔔 সর্বশেষ খবর সবার আগে পেতে যুক্ত হন

ব্রেকিং নিউজ, চাকরির খবর, টেক আপডেট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের WhatsAppTelegram চ্যানেলে এখনই যুক্ত হন।

Breaking News