ভুয়ো জন্ম সার্টিফিকেট ধরতে বড় পদক্ষেপ, স্কুল-মাদ্রাসার নথি যাচাই করবে প্রশাসন

-

তামান্না খান, কলকাতাঃ ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র রুখতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর বিশেষ তথ্য যাচাই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছে। এর আওতায় বিভিন্ন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং স্কুল-মাদ্রাসার ভর্তি রেজিস্টারের তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে, যাতে কোথাও কোনও অসঙ্গতি বা ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রের ব্যবহার রয়েছে কি না তা চিহ্নিত করা যায়। এই তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে জাল জন্ম শংসাপত্র শনাক্ত করার পাশাপাশি রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতেও সহায়তা মিলবে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার।

ভুয়ো জন্ম সার্টিফিকেট ধরতে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকার

রাজ্যে ভুয়ো পরিচয়পত্র ও জন্ম শংসাপত্রের ব্যবহার রুখতে এবার বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বেআইনি অনুপ্রবেশের অভিযোগের মধ্যে অনেকের পরিচয় ও নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় স্কুলস্তরে থাকা ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে জন্ম শংসাপত্রের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং স্কুল-মাদ্রাসার নথিতে কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার মাধ্যমে জাল বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি নথি শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। এর ফলে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং অবৈধভাবে তৈরি নথির ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার।

- Advertisement -

কোন কোন নথির মধ্যে মিলিয়ে দেখা হবে তথ্য?

এই তথ্য যাচাই প্রক্রিয়ায় মূলত তিন ধরনের নথি মিলিয়ে দেখা হবে। প্রথমত, ICDS প্রকল্পের আওতায় থাকা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে সংরক্ষিত শিশু ও মায়েদের বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হবে। দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে থাকা টিকাকরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও কার্ডের তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। তৃতীয়ত, রাজ্যের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির সময় জমা দেওয়া নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ভর্তি রেজিস্টারের তথ্যও খতিয়ে দেখা হবে। এই নথিগুলির মধ্যে তথ্যের কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কিভাবে চলবে যাচাই প্রক্রিয়া?

নির্দেশিকা অনুযায়ী, গোটা যাচাই প্রক্রিয়াটি জেলা স্তরে পরিচালনা করা হবে। কলকাতা পুরসভা এলাকার ক্ষেত্রে কলকাতা পুর কমিশনার এবং অন্যান্য জেলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের ওপর এই কাজের সরাসরি তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব থাকবে। যাচাইয়ের সময় যদি দেখা যায় কোনও শিশুর নাম অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, স্বাস্থ্য দপ্তরের টিকাকরণ সংক্রান্ত নথি অথবা স্কুল-মাদ্রাসার ভর্তি রেজিস্টারে রয়েছে, কিন্তু তার বৈধ জন্ম শংসাপত্র বা জন্ম নিবন্ধনের রেকর্ড নেই, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। জেলাশাসকের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান এবং প্রয়োজন হলে সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। তদন্তে যদি কোনও নথিভুক্তিকরণ ভুয়ো বা জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে ‘দ্য রেজিস্ট্রেশন অব বার্থস অ্যান্ড ডেথস অ্যাক্ট, ১৯৬৯’ এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

- Advertisement -

স্কুল ও মাদ্রাসা প্রধানদের প্রতি নির্দেশ

এই নির্দেশিকা কার্যকর করার জন্য রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (DI) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের নিজ নিজ এলাকার স্কুল ও মাদ্রাসার প্রধানদের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় নির্দেশ পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে। প্রশাসনিক দল তথ্য যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেলে স্কুল ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। পাশাপাশি, ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি রেজিস্টারসহ প্রয়োজনীয় যাবতীয় নথি প্রশাসনিক দলের যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

Breaking News