পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মিড-ডে মিল প্রকল্পে বড় সুখবর পেলেন রাঁধুনি ও সহায়করা। রাজ্য সরকার মিড-ডে মিল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত লক্ষাধিক কর্মীর মাসিক সাম্মানিক ১,০০০ টাকা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে এই ঘোষণা করা হলেও এবার তা বাস্তবায়নের পথে এগোল নবান্ন। শুধু বেতন বৃদ্ধিই নয়, স্কুলে পুষ্টিকর গরম খাবারের মান আরও উন্নত করতে দৈনিক রান্নার খরচও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি যেসব স্কুলে এখনও রান্নার গ্যাসের সংযোগ নেই, সেখানে এলপিজি সংযোগ দেওয়ার জন্যও কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের ২ লক্ষ ২৩ হাজারের বেশি রাঁধুনি ও সহায়ক উপকৃত হবেন, পাশাপাশি উন্নত মানের খাবারের সুবিধা পাবে কয়েক কোটি স্কুল পড়ুয়াও।
পশ্চিমবঙ্গের মিড ডে মিল প্রকল্পে বড় ঘোষণা
নতুন ‘পিএম পোষণ’ (PM POSHAN) প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গের মিড-ডে মিল ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে পড়ুয়াদের আরও পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে রান্নার বরাদ্দ বৃদ্ধি, পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রাঁধুনি ও সহায়কদের সাম্মানিক বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে যেমন স্কুলের মিড-ডে মিল পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে, তেমনি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন।
মিড ডে মিল প্রকল্পে সাম্মানিক বৃদ্ধি
এতদিন পশ্চিমবঙ্গে মিড-ডে মিল প্রকল্পের রাঁধুনি ও সহায়করা মাসে মোট ২,০০০ টাকা সাম্মানিক পেতেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ছিল ৬০০ টাকা, রাজ্যের ম্যাচিং শেয়ার ৪০০ টাকা এবং রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা দেওয়া হতো। এই সাম্মানিক বছরে সর্বোচ্চ ১০ মাসের জন্য প্রদান করা হত। এবার নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্য সরকার আরও ১,০০০ টাকা অতিরিক্ত দেওয়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। ফলে রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত অনুদান ১,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ২,০০০ টাকা হয়েছে। এই অতিরিক্ত বরাদ্দের জন্য রাজ্যের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪১২.১১ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে।
কবে থেকে কার্যকর হবে নতুন বেতন?
আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে রাজ্যের রাঁধুনি ও সহায়কেরা প্রতি মাসে মোট ৩,০০০ টাকা করে সম্মানি পাবেন। এই বর্ধিত বেতনও বছরে সর্বোচ্চ ১০ মাসের জন্য কার্যকর থাকবে।
পড়ুয়া পিছু দৈনিক রান্নার খরচ বেড়ে ১০ টাকা
মিড-ডে মিল প্রকল্পে শুধু কর্মীদের সাম্মানিকই নয়, পড়ুয়াদের খাবারের জন্য দৈনিক রান্নার বরাদ্দও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এতদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য দৈনিক রান্নার খরচ বাবদ ৬.৭৮ টাকা বরাদ্দ ছিল, যা এখন বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য রাজ্য সরকার ৪১৪.৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সরকারের আশা, বরাদ্দ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্কুলগুলিতে ডিম, ডাল, টাটকা সবজি-সহ আরও পুষ্টিকর ও সুষম খাবার পরিবেশন করা সহজ হবে।
১০০ শতাংশ গ্যাস সিলিন্ডার সংযোগ মিলবে
স্কুলগুলোতে কয়লা বা কাঠের উনুনের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। শিক্ষা দপ্তরের নতুন আদেশ অনুযায়ী, রাজ্যের যে সমস্ত অবশিষ্ট স্কুলে এখনো রান্নার গ্যাসের কানেকশন পৌঁছায়নি, সেখানে দ্রুত এলপিজি সংযোগ দেওয়া হবে। পিএম-পোষণ প্রকল্পের অধীনে এই কাজের জন্য ইউনিট প্রতি ৩,০০০ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন রান্নার কাজ সহজ হবে তেমনি অন্যদিকে পরিবেশ দূষণও কমবে।
