বিধবা ভাতার নতুন আবেদন নিয়ে বড় আপডেট! কোথায় আবেদন করবেন, কী কী নথি লাগবে জেনে নিন

-

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প হল বিধবা ভাতা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্বামীর মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলাদের প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে এখনও অনেক মহিলা শুধুমাত্র সঠিক তথ্যের অভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। কোথায় আবেদন করতে হবে, কীভাবে আবেদন করবেন, কী কী নথি লাগবে এবং আবেদন প্রক্রিয়া কী—এসব না জানার কারণেই অনেকের আবেদন হয় না। তাই আর চিন্তার কারণ নেই, এই প্রতিবেদনে সহজ ভাষায় বিধবা ভাতা প্রকল্পে আবেদন করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় সব তথ্য তুলে ধরা হল।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের কাছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে একাধিক জনকল্যাণ শিবির আয়োজন করা হয়েছে। এই শিবিরগুলিতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের পাশাপাশি বিধবা ভাতা প্রকল্পের আবেদনপত্র বিতরণ এবং আবেদন জমা নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। ফলে যোগ্য মহিলারা নির্দিষ্ট নথিপত্র নিয়ে সহজেই আবেদন করতে পেরেছেন এবং সরকারি কর্মীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তাও পেয়েছেন।

- Advertisement -

তবে অনেকেই সময়ের অভাব, শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে আবেদন করতে পারেননি। তাই বলে চিন্তার কোনও কারণ নেই। শুধু শিবিরেই নয়, সারা বছরই এই প্রকল্পে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। যোগ্য আবেদনকারীরা নিজেদের এলাকার ব্লক অফিস, গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভা (মিউনিসিপালিটি) অফিসে গিয়ে বিধবা ভাতা প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিধবা ভাতা প্রকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা পেনশন প্রকল্প। স্বামীর মৃত্যুর পর আর্থিক সমস্যায় পড়া বিধবা মহিলাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীদের প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, যাতে তাঁরা সংসারের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে পারেন এবং ন্যূনতম জীবনযাত্রার মান বজায় রেখে স্বাবলম্বীভাবে জীবনযাপন করতে সক্ষম হন।

- Advertisement -

পশ্চিমবঙ্গের বিধবা ভাতা প্রকল্প রাজ্য সরকারের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দফতরের অধীনে পরিচালিত হয়। বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য বিধবা মহিলারা প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পান। এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গ বাজেট ২০২৬-২৭-এ সামাজিক সুরক্ষা পেনশন প্রকল্পগুলির উপভোক্তাদের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে। প্রস্তাব কার্যকর হলে বিধবা ভাতার পরিমাণ বেড়ে ১,৫০০ টাকা প্রতি মাস হতে পারে।

- Advertisement -

কীভাবে করবেন এই প্রকল্পের আবেদন? 

আপনি যদি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা হন, তাহলে আপনার সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস থেকে বিধবা ভাতার আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে। আর যদি পুরসভা এলাকার বাসিন্দা হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট পুরসভা অফিস থেকে আবেদনপত্র নিতে হবে। আবেদনপত্রে আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা, জেলা-সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি ডিবিটি (DBT) সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নম্বর, আধার নম্বর, ভোটার আইডি (EPIC) নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত নথিপত্র সংযুক্ত করে আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দিলেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

আবেদনপত্রের সঙ্গে আবেদনকারীকে স্বামীর মৃত্যু সনদের (Death Certificate) ফটোকপি, নিজের আধার কার্ডভোটার কার্ডের ফটোকপি এবং একটি সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দফতর অতিরিক্ত নথিও চাইতে পারে। এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে অফলাইন এবং অনলাইন—দুই মাধ্যমেই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে, ফলে আবেদনকারীরা নিজেদের সুবিধামতো যে কোনও একটি পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন।

তবে বর্তমানে এই প্রকল্পে নতুন আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তাই নতুন আবেদন করতে ইচ্ছুকদের আপাতত কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। সূত্রের খবর, আগামী জনকল্যাণ শিবির শুরু হলে বিধবা ভাতা প্রকল্পে নতুন করে আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া আবার চালু হতে পারে। সেই সময় সরকার বা সংশ্লিষ্ট দফতরের পক্ষ থেকে নতুন নির্দেশিকা ও আবেদন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। তাই আবেদনকারীদের সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

🔔 সর্বশেষ খবর সবার আগে পেতে যুক্ত হন

ব্রেকিং নিউজ, চাকরির খবর, টেক আপডেট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের WhatsAppTelegram চ্যানেলে এখনই যুক্ত হন।

Breaking News