বর্ষা এ বছর স্বাভাবিকের তুলনায় আগে আসতে পারে বলে প্রথমদিকে আশা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই পূর্বাভাস পুরোপুরি মেলেনি। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মে মাসের মাঝামাঝি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটেছিল, যার ফলে আবহাওয়াবিদেরা অনুমান করেছিলেন যে ২৬ মে-র আশপাশেই কেরালা উপকূলে বর্ষা পৌঁছে যেতে পারে। তবে অনুকূল বায়ুপ্রবাহ ও অন্যান্য আবহাওয়াগত পরিস্থিতি পুরোপুরি সহায়ক না হওয়ায় মে মাসের মধ্যে কেরালায় বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটেনি। ফলে এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কবে ভারতের মূল ভূখণ্ডে বর্ষার আগমন হবে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির পরিমাণ কেমন হতে পারে।
ভারতে বর্ষা ঢুকছে কবে?
ইতিমধ্যেই লাক্ষাদ্বীপ ও সংলগ্ন আরব সাগর এলাকায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে এবং তা ধীরে ধীরে কেরালার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী ৩ বা ৪ জুন কেরালা উপকূল দিয়ে ভারতে বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটতে পারে। সেই সময় কেরালা ও তামিলনাড়ুর একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। বর্ষার এই অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে, ফলে দীর্ঘদিনের তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।
বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশের আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে মুম্বইয়ে প্রবল বৃষ্টির জেরে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে, বহু রাস্তায় জল জমে যান চলাচলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ঝড়-বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ার কারণে রাজস্থান, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ থেকে বিহার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দীর্ঘদিনের তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা অসহনীয় গরমের দাপট অনেকটাই কমেছে এবং তাপমাত্রাও কিছুটা নেমেছে। ফলে বর্ষা পুরোপুরি পৌঁছানোর আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।
