জানারুল খান, কলকাতাঃ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেলে মানুষের চেহারা ও শারীরিক গড়নে বেশ কিছু পার্থক্য সহজেই চোখে পড়ে। গায়ের রং, চুলের ধরন, নাকের আকৃতি কিংবা চোখের গড়নের মতো বৈশিষ্ট্যগুলো দীর্ঘ সময় ধরে পরিবেশ ও বংশগতির প্রভাবের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। পূর্ব এশিয়ার মানুষের চোখের আকৃতিও এমনই একটি বৈশিষ্ট্য, যা কোরিয়ান, চীনা, জাপানি, মঙ্গোলীয় এবং নেপালের কিছু জনগোষ্ঠীর মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। ফলে নেপালি, জাপানি, চীনা বা কোরিয়ানদের চোখের গড়ন অনেক সময় ইউরোপীয় বা দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের চোখের তুলনায় আলাদা মনে হয় এবং এই পার্থক্য স্বাভাবিকভাবেই মানুষের কৌতূহলের বিষয় হয়ে ওঠে।
কেন নেপালিদের চোখ সরু ও টানা হয়?
আমরা সকলেই জানি বিশ্বের বিভিন্ন অংশে বসবাসকারী মানুষের শারীরিক গঠনে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে পরিবেশ এবং আবহাওয়া। প্রকৃতি ও পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের ফলেই পূর্ব এশীয়দের চোখ এমন ছোট এবং টানা টানা হয়। অর্থাৎ কোরিয়ান, চীনা, জাপানি, মঙ্গোলীয় এবং নেপালী জনগোষ্ঠীর চোখের আকৃতি ভিন্ন হওয়ার পিছনে পরিবেশ মূল কারণ। বৈজ্ঞানিকভাবে এই চোখের আকৃতিকে বলা হয় এপিক্যান্থিক ভাঁজ। কিন্তু এবার প্রশ্ন আসতে পারে প্রকৃতি কেন এই অঞ্চলের মানুষের চোখকে এমনভাবে তৈরি করেছে?
কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?
নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের মানুষের চোখ তুলনামূলকভাবে সরু দেখানোর পেছনে বিবর্তন ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ‘মনোলিড’ বা ‘এপিক্যান্থিক ফোল্ড’-এর কারণে চোখের ভেতরের কোণের কিছু অংশ ঢেকে থাকে, ফলে চোখের আকৃতি সরু বা তীর্যক মনে হতে পারে। ঠান্ডা, প্রবল বাতাস ও বরফের আলো প্রতিফলনের মতো কঠিন পরিবেশে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে এই বৈশিষ্ট্য গড়ে উঠেছিল বলে কিছু বিজ্ঞানীর ধারণা। তবে এই গঠন শুধু পূর্ব এশিয়ায় নয়, দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য এশিয়া এবং আমেরিকার কিছু জনগোষ্ঠীর মধ্যেও দেখা যায়।
