তামান্না খান, কলকাতাঃ অক্টোবর মাস শুরু হতেই রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে ‘যুবশক্তি’ বা ‘ভরসা’ প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ ও প্রশ্ন বাড়তে শুরু করেছে। রাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকেই যুবশক্তি প্রকল্পে আবেদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। ইতিমধ্যেই অক্টোবর মাস শুরু হয়ে গেলেও আবেদন প্রক্রিয়া আদৌ চালু হয়েছে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি পুজোর আগেই এই প্রকল্পের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে কি না, সেটিও জানতে চাইছেন বহু যুবক-যুবতী। তাই আজকের প্রতিবেদনে যুবশক্তি প্রকল্পে কীভাবে আবেদন করবেন, কোথায় আবেদন করতে হবে, আবেদনের সময়সীমা কতদিন—সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি জেনে নিন।
যুবশক্তি প্রকল্পে আবেদন কি শুরু হল?
রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁরা স্থায়ী কাজ বা কর্মসংস্থানের সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘ভরসা’ বা ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য প্রার্থীরা মাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা পেতে পারেন। গত ২২ জুন রাজ্য বাজেটেই এই প্রকল্প চালুর ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সময় জানানো হয়েছিল, ১ অক্টোবর থেকে যুবশক্তি বা ভরসা প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। তবে অক্টোবর মাস শুরু হয়ে গেলেও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। এই মুহূর্তে আবেদন শুরু হয়েছে কি না, কোথায় আবেদন করতে হবে এবং প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের সর্বশেষ আপডেট কী, তা দেখে নিন।
মাসে কত টাকা করে পাওয়া যাবে?
এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী ভাতার পরিমাণ আলাদা হবে। স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেও যারা এখনও কোনও কাজ পাননি, তাঁরা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। অন্যদিকে, ন্যূনতম মাধ্যমিক পাস কিন্তু স্নাতক নন, অর্থাৎ মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পাস যোগ্য প্রার্থীদের মাসে ২,০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’-এর সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বা ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং অন্তত মাধ্যমিক পাস হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তাঁকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য পরিবারের মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম হওয়াও শর্তের মধ্যে রয়েছে। এছাড়া আবেদনকারীর নিজের নামে একটি সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং সেই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর লিঙ্ক করা থাকা বাধ্যতামূলক।
