কাশ্মীর উপত্যকার আকাশ থেকে যেন দুর্যোগের কালো মেঘ সরতেই চাইছে না। ভয়াবহ মেঘ ফাটার ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে, আর আশঙ্কা করা হচ্ছে আরও কয়েকশো মানুষ এখনও আটকে রয়েছেন। জানা গেছে, জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলার চিশোটি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে প্রাণহানি ছাড়াও বড়সড় সম্পত্তি ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। মাছাইল মাতা যাত্রার পথে পাদার মহকুমায় এই মেঘ ফাটার ঘটনা স্থানীয়দের আতঙ্কিত করে তুলেছে।
ভয়াবহ মেঘ ফাটল কাশ্মীরে
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে জোরকদমে উদ্ধার কাজ চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সবকিছু ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে প্রশাসনের বিশেষ দল ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন—সবাই চোখ রেখেছে ঘটনার ওপর। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার মধ্যে সাতজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, মেঘ ফাটার পর চাশোটি গ্রামে হঠাৎই ভয়াবহ বন্যা নেমে আসে, যা বহু ঘরবাড়ি তছনছ করে দিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জেলা প্রশাসন এবং এনডিআরএফ দল উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। কাঠের সেতু এবং পিএমজিএসওয়াই সেতু উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিশতওয়ারের জেলা প্রশাসক পঙ্কজ কুমার শর্মা জানিয়েছেন, মাছাইল মাতা যাত্রার সূচনাস্থল চাশোটি এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অনেকের মৃত্যুর আশঙ্কা
বিরোধী দলীয় নেতা সুনীল কুমার শর্মা এবং স্থানীয় বিধায়ক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং উদ্ধারকাজ পর্যবেক্ষণ করছেন। এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই, তবে প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ব্যস্ত। ঘটনা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং বলেছেন যে জম্মু ও কাশ্মীরের বিরোধীদলীয় নেতা এবং স্থানীয় বিধায়ক সুনীল কুমার শর্মার কাছ থেকে জরুরি বার্তা পাওয়ার পর, তিনি কিশতোয়ারের ডেপুটি কমিশনার পঙ্কজ কুমার শর্মার সাথে কথা বলেছেন। চিশোটি এলাকায় একটি বিশাল মেঘ ফাটার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে তৎপর হয়েছে, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।









