রিপোর্ট অনুযায়ী, সামনে বিহার বিধানসভা ভোট ঘিরে রাজনৈতিক আবহ তুঙ্গে। আর সেই প্রচারের মঞ্চে কংগ্রেসের ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ নিয়েই তৈরি হলো নতুন বিতর্ক। রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) নেতৃত্বে চলছে এই যাত্রা, যেখানে তাঁকে বাইকে চড়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে দেখা গেছে। তবে দারভাঙ্গার র্যালি চলাকালীন অভিযোগ ওঠে, রাহুলের নিরাপত্তায় থাকা কর্মীরা নাকি অনেকের কাছ থেকে জোর করে বাইক কেড়ে নেন। পরিস্থিতি এতটাই বাড়ে যে কয়েকটি বাইক রাস্তার ধারে ফেলে রাখা অবস্থায় দেখা যায়, আর একটি বাইক এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক তরজা।
রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে বাইক চুরির অভিযোগ!
আপনাদের জানিয়ে রাখি যে, ২৭শে আগস্ট রাহুল গান্ধী বুলেট বাইক নিয়ে দারভাঙ্গায় র্যালি করেছিলেন। ছিলেন লালুপুত্র তেজস্বী যাদবও। অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় নিরাপত্তার কারণে রাহুলের নিরাপত্তা কর্মীরা তাড়াহুড়ো করে অনেকের মোটরসাইকেল কেড়ে নেয়। পরে কিছু বাইক রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু এখনও একটি বাইকের খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাইক মালিকরা। তাঁরা নিরাপত্তা কর্মী থেকে শুরু করে কংগ্রেস নেতা এবং পুলিশ প্রশাসন সকলের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন। তবুও, একটি বাইক এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখন দেখার বিষয় এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কাকে দায়ী করা হয় এবং ভুক্তভোগী কখন তার বাইকটি ফেরত পাবেন।
ঘটনাকে আরও উসকে দিয়েছেন ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে মা দুর্গা লাইন হোটেল চালানো যুবক শুভম সৌরভ। তাঁর অভিযোগ, তাঁর বাবা অনিল রাইয়ের পালসার ২২০ বাইকটি রাহুল গান্ধীর নিরাপত্তায় থাকা এসপিজি কমান্ডোরা জোর করে নিয়ে যায় এবং এখনও ফেরত দেয়নি। শুভম এবং তাঁর পরিবার জানিয়েছেন, তাঁরা একাধিক জেলায় ঘুরে বাইকটি খুঁজেছেন, কিন্তু কোনও খোঁজ মেলেনি। বাইক হারিয়ে যাওয়ায় পরিবারে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, আর এই অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক আরও বেড়েছে।
যাত্রা নিয়ে বড় বার্তা রাহুল গান্ধীর
শনিবার ভোজপুরে আয়োজিত এক সভায় প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী জানান, তাঁর ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ আসলে একটি বিপ্লব, যার সূচনা হচ্ছে বিহার থেকে এবং তা খুব শীঘ্রই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। বক্তৃতায় তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, “বিহারের নির্বাচন চুরি করতে দেওয়া হবে না।” রাহুলের দাবি, এই যাত্রায় কোটি কোটি যুবক সংবিধান রক্ষার লড়াইয়ে তাদের শক্তি নিয়োজিত করেছেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, “বিপ্লব বিহার থেকেই শুরু হয়। বিহারের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছেন, এই আন্দোলন এখান থেকেই ছড়িয়ে পড়বে গোটা দেশে।”









