আজ মহাষ্টমী। সকাল থেকেই অষ্টমীর পুজোর আবহ ছড়িয়ে পড়েছে। পঞ্জিকা ও তিথি অনুযায়ী শুরু হয়েছে অঞ্জলির সময়, কিন্তু মুর্শিদাবাদের(Murshidabad) ফরাক্কায় এক দুর্গাপুজো মণ্ডপে আজানের সময়সূচি সেঁটে দেওয়ায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের দিকে, তবে নেতারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলছেন।
পুজো মণ্ডপে আজানের সময়সূচী!
স্থানীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, মুর্শিদাবারের ফরাক্কায় মহেশপুর পঞ্চায়েতের পূর্ব শিবতলায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। এখানে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরা সবাই মিলে জোটবদ্ধ হয়ে এই পুজোর আয়োজন করেন। কিন্তু চলতি বছর মহাঅষ্টমীর সময় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। দুর্গাপুজোর প্রস্তুতির সময় মণ্ডপের প্রধান দরজায় একটি বড় পোস্টারে আজানের সময়সূচি লাগানো হয়, যেখানে ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব এবং ইশার সময় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। এতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রীতির সাফাই তৃণমূলের
পুজো মণ্ডপে এইভাবে আজানের সময়সূচি লাগানোকে শাসকদলের একাংশ স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে ‘সমঝোতার’ অংশ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।” কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এটি অত্যন্ত অপমানজনক মনে হয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় রাজ্য বিজেপি সরব হয়ে শাসকদলের কাজকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে এবং বলেছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এখানে শুধুই ভাওতাবাজি। মূলত হিন্দুরা সংখ্যালঘু হওয়ায়, স্থানীয়দের মতে, আজানের সময়সূচি বাধ্যতামূলকভাবে না দিলে পুজো মণ্ডপে ভাঙচুর হতে পারত। যদিও এই একই কথা শোনা যায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেও।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
কী বলছেন শুভেন্দু অধিকারী?
ফারাক্কার পুজো মণ্ডপে আজানের সময়সূচি দেখে বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুর্শিদাবাদে মহম্মদ ইউনূস মডেলের এই সরকারের মূল লক্ষ্য ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং হিন্দুদের ওপর চাপ বৃদ্ধি করে মুসলিম ভোট বাড়ানো। কারণ সাধারণ সনাতনীদের আস্থা এই সরকারের ওপর থেকে গেছে। তাই হিন্দুদের বেকায়দায় ফেলে ভোট ব্যাঙ্ককে মজবুত রাখতেই এই ধরনের কার্যকলাপ করা হচ্ছে।” অনেকেই এই ঘটনাকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হওয়া অত্যাচারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাদের মতে, মুর্শিদাবারের ফরাক্কায় যা ঘটছে, তা বাংলাদেশের মতো সংখ্যালঘুদের ওপর নিয়ম আরোপের মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও লেখেন, ‘ফরাক্কার মহেশপুর পঞ্চায়েত এলাকার পূর্ব শিবতলায় দুর্গা পুজোর মণ্ডপে আজানের সময় সূচি প্রদর্শন করা হয়েছে। এই দৃশ্য ব্রিটিশ আমলেও দেখা যায় নি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে এই দৃশ্য দেখতেও আমরা বাধ্য হলাম।’
