বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা (Bageshwar Baba) নামেই বেশি পরিচিত, বর্তমানে জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। ভক্তদের বিশ্বাস, তাঁর মধ্যে অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে—কারও সম্পর্কে কিছু না জেনেই নাকি তিনি কাগজে সেই ব্যক্তির জীবনের নানা দিক লিখে ফেলতে পারেন। এতদিন তিনি মূলত হনুমানজি ও ধর্ম নিয়ে বক্তব্য রাখতেন, কিন্তু গত কয়েক বছরে তিনি খোলাখুলিভাবে হিন্দুত্ববাদী অবস্থান নিয়েছেন এবং নিজেকে ‘হিন্দুরাষ্ট্র যোদ্ধা’ বলেও পরিচয় দিয়েছেন। আর এবার সেই বাগেশ্বর বাবা বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা ঘিরে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক।
মমতাকে কটাক্ষ বাগেশ্বর বাবার Bageshwar Baba Controversy
জানা গেছে, আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত কলকাতায় তিন দিনের হনুমন্ত কথা অনুষ্ঠান করার কথা ছিল বাগেশ্বর বাবার। তবে শেষ মুহূর্তে সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠান স্থলে ভারী বৃষ্টির কারণে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে বাগেশ্বর ধামের পণ্ডিত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা গেছে, “পশ্চিমবঙ্গে হনুমন্ত কথা ততক্ষণ বলব না, যতক্ষণ দিদি আছে।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করলেও তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কী বলেছেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী?
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা নিশ্চয়ই বুঝে গিয়েছেন কার কথা বলছি, আমি নাম নেব না। তবে এতটুকু বলব—পশ্চিমবঙ্গে যতক্ষণ দিদি আছেন, ততক্ষণ আমি হবুমন্ত কথা বলব না। যখন দাদা আসবেন, তখন আমরা অনুষ্ঠান করব।” তাঁর এই বক্তব্যে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সকলেরই ধারণা, তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। এরপর তিনি আরও বলেন, “আমরা ধর্ম ও পরম্পরা মেনে কথার আয়োজন করি। তবে পরিস্থিতি অনুকূল হলে এবং প্রশাসনের অনুমতি মিললেই হনুমন্ত কথার অনুষ্ঠান করা হবে।” তাঁর এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন অনুগামীরা, যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পণ্ডিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী বহুদিন ধরেই হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখছিলেন এবং সেই লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনাও করে আসছিলেন। অবশেষে তাঁর সেই ভাবনা কিছুটা বাস্তব রূপ পেল। চলতি বছর মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামে তাঁর হাত ধরেই গড়ে উঠেছে দেশের প্রথম ‘হিন্দু গ্রাম’। জানা গেছে, এই গ্রামে একসঙ্গে বসবাস করবেন এক হাজারেরও বেশি হিন্দু পরিবার। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর মতে, “হিন্দু সমাজ তখনই শক্তিশালী হবে, যখন হিন্দু পরিবার, হিন্দু গ্রাম, হিন্দু জেলা এবং একদিন হিন্দু রাষ্ট্র গঠিত হবে।” তাঁর বিশ্বাস, এই গ্রাম শুধু একটি সাধারণ বসতি নয়, বরং সনাতন সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ রক্ষার এক দৃঢ় ভিত্তি।









