রহান, কলকাতা: সামনেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, আর তার মধ্যেই বার কাউন্সিল ভোটের ভোটার তালিকা ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে (Bar Council Voter List Controversy)। তালিকা প্রকাশ হতেই আইনজীবী মহলে ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে, কারণ সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নাম না থাকায় নানা প্রশ্ন উঠছে। অনেকের মতে, এই ঘটনায় বার কাউন্সিল ভোটেও যেন SIR-এর ছায়া পড়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই আদালত চত্বরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা, আর একের পর এক অনিয়মের অভিযোগও উঠছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হওয়ায় বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে।
বার কাউন্সিল নির্বাচনের ভোটার তালিকা ঘিরে প্রশ্নের ঝড়
আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই বাংলায় বার কাউন্সিলের নির্বাচন শেষ করার নির্দেশ আগেই দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে নির্বাচন তদারকির জন্য মণিপুর হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ডি কৃষ্ণকুমার এবং কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়কে দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করেছে শীর্ষ আদালতের উচ্চপর্যায়ের কমিটি। যদিও বিচারপতি রায় এখনও এ বিষয়ে সরকারি ভাবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি বলেই খবর। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের প্রায় সব জেলার আইনজীবী সংগঠন অভিযোগ তুলেছে, প্রকাশিত ভোটার তালিকা থেকে বহু প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইতিমধ্যেই বার কাউন্সিলকে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
প্রায় ১৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ!
জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে একজন নথিভুক্ত আইনজীবী এবং কলকাতা হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। একইভাবে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও একজন আইনজীবী হিসেবে বারের সদস্য। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেই নাম না থাকায় বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের বড় অংশ। এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই বার কাউন্সিলের বিদায়ী বোর্ডের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও জোরালো হয়েছে। আইনজীবী মহলের দাবি, রাজ্যজুড়ে প্রায় ১৭ হাজার প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর জেরে আদালত চত্বরে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী ৭ জানুয়ারি ওই মামলার শুনানি নির্ধারিত রয়েছে।
প্রার্থী হওয়ার খরচ নিয়েও বিতর্ক (Bar Council Voter List Controversy)
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য লিগ্যাল সেলের প্রাক্তন আহ্বায়ক তরুণ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, শুধু সাধারণ আইনজীবীরাই নন, জেলায় জেলায় বহু পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামও বার কাউন্সিলের ভোটার তালিকায় নেই। তাঁর দাবি, পরিকল্পিত ভাবেই নতুন আইনজীবীদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যদিও এই অনিয়মের বিরুদ্ধে মূলত সাধারণ আইনজীবীরাই সরব হয়েছেন। এদিকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়াতেও ক্ষোভ ছড়িয়েছে আদালত চত্বরে। আগে যেখানে মনোনয়ন জমা দিতে খরচ ছিল ৩০ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ভোটার তালিকার বিতর্কের সঙ্গে খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি যোগ হওয়ায় আইনজীবী মহলে অসন্তোষ আরও তীব্র আকার নিয়েছে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে ঘিরে এবার বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘সার্টিফিকেট অফ প্র্যাক্টিস’-এর বিষয়টিও। অভিযোগ, ২০১৬ সালে সার্টিফিকেটের জন্য টাকা নেওয়া হলেও বহু আইনজীবী আজও সেই সার্টিফিকেট পাননি, ফলে তাঁদের ভোটার হওয়া বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। উল্লেখ্য, বার কাউন্সিলের নির্বাচন হওয়ার কথা ১৯, ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি। ভোটের আগে সার্টিফিকেট ইস্যুর শেষ দিন ছিল ২ জানুয়ারি, কিন্তু তালিকা প্রকাশের পর এই ইস্যু নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আইনজীবী মহলে। এখন সকলের নজর আগামী শুনানির দিকে—সেখানে এই বিতর্কের কী পরিণতি হয়, সেটাই দেখার।







