JKNews24 Desk: ফল খাওয়ার জন্য মিঠুন চক্রবর্তীকে ৫০০ টাকা উপহার দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন এক ভক্ত। পাশাপাশি প্রিয় তারকার স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি। জানা গিয়েছে, গতকাল শুক্রবার কোচবিহারের পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার মাঠে এক জনসভায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। সেই সময় ওই ভক্ত টাকা হাতে নিয়ে হাজির হলেও ভিড়ের কারণে মিঠুনের কাছে পৌঁছাতে পারেননি। আর এতেই আবেগে আপ্লুত হয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মহাগুরু নিজেই।
ঠিক কী হয়েছিল?
কোচবিহারের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের গান্ধী কলোনির বাসিন্দা মামণি সরকার, বয়স প্রায় ৫০ বছর, পেশায় একজন পরিচারিকা। ছোটবেলা থেকেই মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর বড় ভক্ত হলেও জীবনে কোনওদিন তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল কোচবিহারের পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার মাঠে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প’ সভার খবর কানে যেতেই সব কাজ ফেলে এক ঝলক প্রিয় তারকাকে দেখার আশায় ছুটে আসেন তিনি। ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন ৫০০ টাকা উপহার, যা তিনি মিঠুন চক্রবর্তীর সুস্থতার জন্য ফল খাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।
উপহার দিতে না পারার আক্ষেপ ভক্তের
মামণি সরকার জানিয়েছেন, পরিচারিকার কাজ করে তিনি কঠিন পরিশ্রমে ৫০০ টাকা জমিয়েছিলেন, যা তিনি মিঠুন চক্রবর্তীর হাতে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন যাতে অভিনেতা সুস্থ থাকার জন্য ফল কিনে খান। টিভিতে দেখেছেন, অভিনেতার স্বাস্থ্যে খানিকটা অবনতি হয়েছে, তাই এই ছোট্ট উপহারটি তার প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে দিতে চেয়েছিলেন। তবে ভিড়ের কারণে এবারও তিনি মিঠুনের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারেননি, শুধু দূর থেকে দেখেই খুশি থাকতে হল। প্রিয় নায়কের জন্য উপহার নিয়ে এলেও দিতে না পারার আক্ষেপে চোখে জল চলে এল মামণির। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার ইচ্ছা ভেস্তে যায়নি—ভক্তের ভালোবাসা দেখেই খোঁদ মিঠুন চক্রবর্তী এগিয়ে আসেন এবং দেখা করতে চাইলেন মামণি সরকারের সঙ্গে।
ভক্তের ডাকে সাড়া দিলেন মিঠুন
আজ অর্থাৎ শনিবার সকালে মিঠুন চক্রবর্তী নিজেই বিজেপি নেতাদের নির্দেশ দেন, যেন ওই মহিলাকে খুঁজে এনে তার সঙ্গে দেখা করা হয়। নানা খোঁজখবরের পর শেষ পর্যন্ত ১ নম্বর কালীঘাটের বাসিন্দা মামণি সরকারকে খুঁজে বের করা যায়। মিঠুনের সঙ্গে দেখা করার সময় তিনি ৫০০ টাকা উপহার হিসেবে দেন। টাকার পাশাপাশি তিনি মিঠুনকে একটি ছোট গোপাল ঠাকুরের মূর্তিও উপহার দিয়েছেন। ভক্তের এই ছোট্ট কিন্তু আন্তরিক উপহার পেয়ে মিঠুন চক্রবর্তী খুবই খুশি হন এবং বলেন, “এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।”






