JKNews24 Desk: পশ্চিমবঙ্গের পড়ুয়াদের জন্য বড় খবর। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সম্প্রতি ২০২৬ সালের অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে, যেখানে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য একাধিক নতুন নিয়ম ও নির্দেশিকা জানানো হয়েছে। এই নতুন গাইডলাইনগুলি রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলে বাধ্যতামূলকভাবে মানতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে পর্ষদ। ঠিক কী কী পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং কোন কোন নিয়মে বদল হচ্ছে, তা জানতে বিস্তারিত পড়ুন এই প্রতিবেদনে।
কী বলছে নতুন একাডেমিক ক্যালেন্ডার গাইডলাইন (মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নতুন নিয়ম)
রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন গাইডলাইন জারি করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলকে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে বিদ্যালয় পরিচালনা করতে হবে। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সবাইকে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে স্কুলে উপস্থিত থাকতে হবে। সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ঠিক ১০টা ৫০ মিনিট থেকেই পঠনপাঠন শুরু করতে হবে এবং বিদ্যালয় ছুটি হবে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নতুন নিয়ম
এদিকে শিক্ষার মান বজায় রাখতে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সব শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের মধ্যেই প্রার্থনা সভায় উপস্থিত থাকতে হবে—এর পরে এলে তা ‘লেট’ হিসেবে ধরা হবে এবং ১১টা ১৫ মিনিটের পর উপস্থিত হলে সেদিন অনুপস্থিত বলে গণ্য করা হবে। ক্লাসরুম বা ল্যাবে পঠন-পাঠনের সময় কোনওভাবেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না, এমনকি পরীক্ষার সময় ইনভিজিলেটর থাকাকালীনও মোবাইল রাখা নিষিদ্ধ। পাশাপাশি, সরকারি বিশেষ কাজ ছাড়া বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের আগে স্কুল ছাড়া যাবে না এবং ব্যক্তিগত লাভের জন্য কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকা প্রাইভেট টিউশনও নিতে পারবেন না—এমনটাই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে পর্ষদ।
ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্দেশ
ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার মান আরও উন্নত করতে এবার একগুচ্ছ নতুন নিয়ম চালু করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এই নিয়ম অনুযায়ী, বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে কোনওভাবেই স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট নিয়ে আসা যাবে না। শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে স্কুল চত্বর সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও শৃঙ্খলা মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মারপিট বা কোনও ধরনের বিশৃঙ্খল আচরণের বিরুদ্ধে এবার কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে পর্ষদের তরফে। পাশাপাশি পঠনপাঠন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল করতে সামেটিভ পরীক্ষার দিনক্ষণ আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—প্রথম সামেটিভ পরীক্ষা হবে এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে, দ্বিতীয়টি আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এবং তৃতীয় সামেটিভ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে।









