JKNews24 Desk: মধ্যপ্রাচ্যে এবার যুদ্ধের আগুন। ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে পারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা। এই জল্পনা জোরালো হতেই এবার বিরাট হুঁশিয়ারি দিল তেহরান (Iran on America)। ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আমেরিকা যদি ইরানে হামলা চালায়, তার ফল ইজরায়েলকে ভুগতে হবে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের নিশানায় থাকবে বলে জানিয়েছে আয়াতুল্লাহ খামেনি প্রশাসন।
ইরানের সংসদে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি
রবিবার ইরানের পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমেরিকার কোনও রকম হস্তক্ষেপই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে জানান, যদি আমেরিকা সামরিক পথ বেছে নেয়, তাহলে ইরানও চুপ করে বসে থাকবে না এবং উপযুক্ত জবাব দেবে। কালিবাফের কথায়, দীর্ঘদিন ধরেই ইরান অভিযোগ করে আসছে যে ওয়াশিংটন তাদের দেশের ভিতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে, আর সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রশাসনের কিছু মন্তব্য সেই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরাই জল্পনা
প্রসঙ্গত, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে চলা দেশজুড়ে বিক্ষোভকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন যে, ইরানের মানুষ স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আর আমেরিকার প্রয়োজনে তাদেরকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। তাঁর এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ইরান কি তাহলে সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করছে?
যদিও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সরকারি সূত্র অনুযায়ী ইতিমধ্যে ইরানের সম্ভাব্য হামলার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করে ফেলেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। আর কোন কোন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত করা হতে পারে, সেগুলিকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। রিপোর্ট মোতাবেক, প্রথম পর্যায়ে আকাশপথে বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করছে আমেরিকা এবং ইরানের সেনা স্থাপনগুলিকে মূলত লক্ষ্য করা হতে পারে। আর এহেন জরুরী পরিস্থিতিতে দ্রুত অভিযান চালানোর রূপরেখা নিয়েও হোয়াইট হাউসে আলোচনা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এই সব তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, ইরানের এই অবস্থানের জেরে ইজরায়েলে জারি হয়েছে উচ্চ সতর্কতা, আর পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝেই শনিবার মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ইরানের হুমকিকে কোনওভাবেই হালকাভাবে দেখছে না তারা। এরই মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও ক্রমশ আরও জটিল হয়ে উঠছে—দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ধর্মীয় ইস্যু, নানা কারণে দেশজুড়ে লাগাতার বিক্ষোভ ও মিছিল চলছে, এমনকি খামেনির বিরুদ্ধেও রাস্তায় নেমেছে শত শত মানুষ। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে; বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে এবং আন্দোলন দমন করতে টানা দু’দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন গোটা বিশ্বের নজর, এই সঙ্কট শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।








