আবহাওয়া খেলাধূলা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য টাকাপয়সা প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ারবাজার শিল্প অন্যান্য

Banglar Bari List Update: আবাস যোজনার টাকায় নতুন করে নাম যোগ ৪ লক্ষ

Banglar Bari List Update

পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত বাসিন্দা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY), বাংলা আবাস যোজনা অথবা বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের জন্য সুখবর। Banglar Bari List 2026 (বাংলার বাড়ি লিস্ট ২০২৬) ইতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকা থেকেই জানা যাবে নতুন বছরে কারা বাড়ি তৈরির টাকা বা আবাস যোজনার ঘরের আর্থিক সাহায্য পাচ্ছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে নতুন করে প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মাণের টাকা পেতে চলেছেন। এই তালিকায় নিজের নাম রয়েছে কি না, কীভাবে অনলাইনে লিস্ট দেখবেন, এই প্রকল্পে কী কী সুবিধা মিলবে এবং নতুন করে কীভাবে আবেদন করা যাবে—এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিস্তারিতভাবে জেনে নিন এখানে।

PMAY Awas Yojana Banglar Bari List 2026

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উদ্যোগ হল বাংলার বাড়ি প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার গরিব ও প্রান্তিক পরিবারগুলিকে পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিলেই চালু করা হয়েছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা রাজ্যে আসেনি। প্রথম ধাপে প্রায় ১২ লক্ষ পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আরও বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা পৌঁছানোর খবর সামনে এসেছে। ফলে নতুন করে ঘর পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন গ্রাম বাংলার হাজার হাজার মানুষ, আর তাতেই ফের আশার আলো দেখছে রাজ্যের প্রান্তিক পরিবারগুলি।

আবাস যোজনা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ও সুবিধা

বাংলার বাড়ি প্রকল্প মূলত রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার সেই সব পরিবারকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে, যাঁরা এখনও গৃহহীন বা কাঁচা বাড়িতে বসবাস করছেন। এই প্রকল্পে প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই টাকা দুই কিস্তিতে দেওয়া হয়। প্রথম কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। বাড়ি তৈরির কাজ নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছালে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হবে। রাজ্যের কিছু দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার কথাও জানানো হয়েছে।

রাজ্য সরকারের সমীক্ষায় ইতিমধ্যেই ২৮ লক্ষের বেশি যোগ্য পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১২ লক্ষ পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। বাংলার বাড়ি প্রকল্প শুধু একটি আর্থিক সহায়তা নয়, বরং গরিব মানুষের মাথার উপর একটি স্থায়ী ছাদের স্বপ্ন পূরণের উদ্যোগ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বহু পরিবারের জীবনমান বদলাবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

বাংলার বাড়ি আবাস যোজনা ঘরের টাকা কবে ঢুকবে 2026

সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাংলার বাড়ি প্রকল্পে (Banglar Bari Yojana) প্রথম কিস্তির টাকা আরও বহু উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলার মতো এলাকায় এই প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে প্রায় ৯৩০ কোটি টাকার বাড়ি নির্মাণের কাজ শেষের মুখে, এবং খুব শীঘ্রই আরও ৬৬০ কোটি টাকা উপভোকীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে

এই প্রকল্পে প্রতিটি যোগ্য পরিবার প্রথম ধাপে ৬০ হাজার টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (DBT মাধ্যমে) পাচ্ছেন। রাজ্য সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত থাকে, সে জন্য কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। ব্লক স্তরের আধিকারিকরা নিয়মিতভাবে বাড়ি তৈরির কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন। অনেক উপভোকী ব্যাঙ্ক থেকে এসএমএস পাওয়ার পর টাকা জমার খবর জানতে পেরে স্বস্তি ও খুশি প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে এবং গ্রাম বাংলার বহু পরিবারের পাকা বাড়ির স্বপ্ন বাস্তবের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

কেন্দ্রের বঞ্চনা ও রাজ্যের উদ্যোগ

কেন্দ্রীয় সরকার পিএম আবাস যোজনা (PMAY) এর টাকা তিন বছর ধরে বন্ধ করে রেখেছে। কেন্দ্রের অভিযোগ রাজ্য সরকার টাকা খরচের কোনও হিসাব দেয়নি বলে টাকা বন্ধ। কারন যা ই হোক, সাধারণ মানুষেরা তো ৩ বছর ধরে টাকা পাচ্ছেন না। যার ফলে রাজ্যের অনেক প্রকল্প আটকে গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বারবার দাবি জানিয়েছেন যে রাজ্যের প্রাপ্য টাকা দিতে হবে। কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি। তাই এবার রাজ্য নিজের খরচে বাংলার বাড়ি প্রকল্প চালু করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee) বলেছেন, “আমরা ভিক্ষা চাই না, আমাদের প্রাপ্য চাই।” এই সিদ্ধান্ত গরিব মানুষের জন্য বড় স্বস্তি এনেছে। রাজ্যের আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার কথা প্রশংসিত হচ্ছে। এতে মানুষের ভরসা বেড়েছে।

মোট কত পরিবার টাকা পাবেন?

রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা একেবারেই স্পষ্ট ও সময়বদ্ধ—বাংলার বাড়ি প্রকল্পের আওতায় বাকি থাকা ১৬ লক্ষ উপভোগীকে ২০২৬ সালের আগেই আর্থিক সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যা দুটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে; প্রথমে ৮ লক্ষ এবং পরে আরও ৮ লক্ষ পরিবার এই সুবিধা পাবে, ফলে রাজ্যজুড়ে মোট ২৮ লক্ষ পরিবারের মাথার উপর পাকা ছাদের ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। এই প্রকল্প শুধু একটি বাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নয়, বরং গ্রাম বাংলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি করছে, যার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনের আগেই স্পষ্টভাবে পড়তে পারে। সরকারের জনকল্যাণমুখী মানসিকতা এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও একবার সামনে এসেছে, আর অনেকের মতে এটি গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গের জন্য সত্যিই এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

বাংলার বাড়ি প্রকল্পের যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া

বাংলার বাড়ি প্রকল্পে কারা সুবিধা পাবেন, তা পুরোপুরি সমীক্ষার ভিত্তিতেই ঠিক করা হয়েছে—যাঁদের কাঁচা বাড়ি রয়েছে বা একেবারেই ঘর নেই, তাঁরাই অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। কোথাও কোনও সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে টোল ফ্রি নম্বরে জানানো যায়, কারণ রাজ্য সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। বাড়ির কাজ কতটা এগোল, তা দেখে ধাপে ধাপে টাকা দেওয়া হচ্ছে এবং অনেক জেলাতেই ইতিমধ্যে উপভোক্তাদের তালিকা প্রকাশ হয়েছে। আপনি যদি যোগ্য হন, তাহলে খুব শিগগিরই সরকারি তরফে খবর পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এই প্রকল্প সত্যিই বহু মানুষের জীবনে নতুন আশা আর আলো এনে দিয়েছে।

বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আবেদন

অনলাইনে বা অফলাইনে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আবেদন করা যায়। দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে ও আবাস যোজনা প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের আগে নিজের জমির দলিল ও পর্চা আপডেট রাখুন। ট্যাক্স ও খাজনা পরিশোধ করুন। এবং সমস্ত নথি, আধার কার্ড, ব্যাংক একাউন্ট দিয়ে আবেদন করুন।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PM Awas Yojana) ও বাংলা আবাস যোজনা (Bangla Awas Yojana) প্রকল্পে ইতিমধ্যেই কোটি কোটি পরিবার বাড়ি বানানোর টাকা পেয়েছে। এবার বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ও প্রচুর মানুষ টাকা পাবেন। আসা করা যায় প্রথম কিস্তির ৪ লাখ পরিবার খুব শীঘ্রই টাকা পাবেন। আরও বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

Pinky Khan

সাত বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডিজিটাল মিডিয়া পেশাজীবী, যিনি অনলাইন কনটেন্ট তৈরি, গণমাধ্যম ও তথ্যসংক্রান্ত কাজে দক্ষ। সরকারি প্রকল্প, স্কলারশিপ ও চাকরির আপডেট নিয়মিতভাবে পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।

Join WhatsApp

Join Now