আবহাওয়া খেলাধূলা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য টাকাপয়সা প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ারবাজার শিল্প অন্যান্য

Tere Ishk Mein movie review: রাঁঝানার আবহ ফিরিয়েও ব্যর্থ,  কেমন হলো ছবিটি?

Tere Ishk Mein movie review

JKNews24 Disk: ২০১৩ সালের ‘রাঁঝানা’-তে ধনুশ অভিনীত আন্তঃধর্মীয় প্রেমের গল্প দর্শকের মনে গভীর দাগ রেখে গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে আনন্দ এল রাই, হিমাংশু যাদব ও নীরজ যাদব সেই আবহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও ‘তেরে ইশক মে’ হয়ে উঠেছে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বিভ্রান্তিকর অভিজ্ঞতা (Tere Ishk Mein movie review)। এবার গল্পের কেন্দ্রবিন্দু ধর্ম নয়, বরং শ্রেণিগত ফারাক—ধনী মেয়ে ও গরিব ছেলের দ্বন্দ্ব। তবে যত এগোয় গল্প, ততই স্পষ্ট হয় নির্মাতারা বিভিন্ন উপাদান—কলেজ রোমান্স, পারিবারিক বাধা, দেশপ্রেম, রাজনৈতিক রেষারেষি এবং এমনকি যুদ্ধ—একসাথে গাদাগাদি করেছেন, যার ফলে ছবি একসময় ভেঙে পড়ে অযৌক্তিক মেলোড্রামা ও অতিরিক্ত আবেগময় বিশৃঙ্খলায়।

ছবির কেন্দ্রে শঙ্কর চরিত্রে ধনুশ, যিনি এক আধুনিক দিনের প্রেমিক হিসেবে কোনওভাবেই ‘নায়কোচিত’ মনে হয় না। তিনি এক অতি-হিংস্র কলেজ ছাত্র, যার প্রধান কাজ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেটানো। অন্যদিকে মুক্তি (কৃতি স্যানন) প্রথমে শঙ্করের প্রতি শুধু একাডেমিক আগ্রহ দেখালেও, শঙ্করের জোরাজুরি ও স্টকিং-র ধারা বাড়তে বাড়তে একসময় নেশায় পরিণত হয়। সংলাপ যেমন “আগর মেয়ে প্যার মে পড় গয়া, তো পুরি দিল্লি জালা দুঙ্গা” তার চরিত্রের বিপজ্জনক ও হিংস্র স্বরূপকে পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তোলে।

২০১৩ সালের ‘রাঁঝানা’-তেও নায়ক চরিত্রের আবেগিক অস্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল, তবে ‘তেরে ইশক মে’-তে সমস্যা অনেক বেশি বহুস্তরীয়। শঙ্করের হিংস্র আচরণকে তার মা-হারা শৈশব দিয়ে বোঝানো যায় না, কারণ তার পাশে রয়েছেন দায়িত্বশীল বাবা (প্রকাশ রাজ)। তবু সে পেট্রোল ছিটিয়ে সম্ভাব্য প্রেমিককে আক্রমণ করা, মুক্তির আইএএস বাবার বাড়িতে আগুন-বোমা ছোড়া—সবই করে অবলীলায়। এগুলো ‘তীব্র প্রেম’ নয়; বরং সরাসরি বিষাক্ততা, যা নারী চরিত্রের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকেও ধ্বংস করে দেয়।

মুক্তির চরিত্রের ট্র্যাজেক্টরি আরও হতাশাজনক; যে মেয়েটি প্রথমে ভয় না পাওয়া বা আপস না করার প্রতীক, পরে তাকেই নেমে যেতে হয় মদ্যপ হতাশার পথে। ছবিতে মোহাম্মদ জিশান আইয়ুবের চরিত্রও সম্পূর্ণ অপচয়- কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না।

ধনুশ নিঃসন্দেহে অসাধারণ অভিনেতা, এবং তার তীব্র অভিনয় দর্শককে টেনে নিয়ে যায়। তবে চরিত্রটি একগুচ্ছ ‘রেড ফ্ল্যাগ’ নিয়ে গঠিত—বিষাক্ত পুরুষত্ব, অধিকারবোধ, ক্রোধ এবং হুমকি—যা ২০২৫ সালে এসে ‘নায়ক’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক। শঙ্করকে ‘অসভ্য, আলফা, আক্রমণাত্মক’ হিসেবে গৌরবান্বিত করা হয়েছে, যা সমসাময়িক দর্শন ও লিঙ্গ-রাজনীতির প্রেক্ষিতে একেবারেই বেমানান। শেষ পর্যন্ত ‘তেরে ইশক মে’ রাঁঝানার আবেগ নয়, বরং বিভ্রান্তিকর চিত্রনাট্য, বিষাক্ত প্রেমের রোম্যান্টিকাইজেশন এবং অতিরিক্ত মেলোড্রামার এক বিশৃঙ্খল কোলাহল হয়ে দাঁড়ায়।

Ranjan Mahato

Ranjan Mahato একজন বিনোদন সংবাদ লেখক, যিনি সিনেমা, টেলিভিশন, ওয়েব সিরিজ ও তারকাদের লাইফস্টাইল নিয়ে লেখেন। সহজ ভাষায় দ্রুত ও নির্ভুল আপডেট দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য। অবসরে তিনি নতুন ছবি ও সিরিজ দেখে রিভিউ করতে ভালোবাসেন। অনলাইন মিডিয়া জগতে তার যাত্রা শুরু 2025 সালে। লেখালেখির পাশাপাশি Ranjan Mahato নতুন ছবি, গান ও সিরিজ দেখে রিভিউ করতে ভালোবাসেন। অবসরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন ট্রেন্ড অনুসরণ করেন এবং পাঠকদের জন্য নতুন কনটেন্ট আইডিয়া সংগ্রহ করেন।

Join WhatsApp

Join Now