ট্রেন দেরিতে পৌঁছনোর জেরে এক NEET পরীক্ষার্থীর জীবনের পুরো একটি মূল্যবান বছর কার্যত নষ্ট হয়ে যায়, আর সেই ক্ষতির জন্যই ওই পড়ুয়া ভারতীয় রেলের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা মামলার পর ভোক্তা ফোরাম আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে শিক্ষার্থীর অভিযোগ পুরোপুরি যুক্তিসঙ্গত। আদালতের মতে, ট্রেন বিলম্বের সরাসরি প্রভাব পড়েছিল তাঁর কেরিয়ারে, আর সেই কারণেই ভারতীয় রেলকে দায়ী করে মোটা অঙ্কের জরিমানা (Fine To Indian Railways) আরোপ করা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
সালটা ২০১৮—উত্তরপ্রদেশের কোতোয়ালি থানার পিকাউড়া বক্সা এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী শ্রীমতী NEET পরীক্ষার জন্য মন দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাঁর পরীক্ষার দিনটাই বদলে দেয় সবকিছু। পরীক্ষার সেন্টার পড়েছিল লখনউয়ের জয় নারায়ণ পিজি কলেজে, আর সেখানে পৌঁছতে তিনি ইন্টারসিটি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসের টিকিট কেটেছিলেন, যা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১১টার মধ্যে লখনউ পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু একাধিক ত্রুটির কারণে ট্রেনটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা দেরিতে চলে, ফলে তিনি সাড়ে ১২টার আগে লখনউ পৌঁছতেই পারেননি।
শুধু ট্রেন লেট হওয়ার কারণেই নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে পারেননি ওই পরীক্ষার্থী, বাতিল হয়ে যায় তাঁর সেই বছরের NEET পরীক্ষা, আর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। পরে এক আইনজীবীর সহায়তায় ভোক্তা ফোরামে মামলা দায়ের করেন শ্রীমতী এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে আদালত তাঁর পক্ষেই রায় দেয়। ভোক্তা কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারক অমরজিৎ বর্মা ও সদস্য অজয় প্রকাশ সিং স্পষ্টভাবে রেলকে দায়ী করে শিক্ষার্থীর ক্ষতির জন্য মোটা অঙ্কের জরিমানা আরোপ করেন, যা এই মামলাকে নজির হিসেবে তুলে ধরেছে।
কত টাকা জরিমানা করা হয়েছিল?
জেলা ভোক্তা কমিশন স্পষ্টভাবে ওই পরীক্ষার্থীর পক্ষেই রায় দিয়ে জানিয়েছে যে, ট্রেন দেরি হওয়ার কারণেই তিনি NEET পরীক্ষায় বসতে পারেননি এবং এর ফলে তাঁর কেরিয়ারের একটি মূল্যবান বছর নষ্ট হয়ে গেছে, যার ক্ষতি কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় ভারতীয় রেলের, তাই ক্ষতিপূরণ হিসেবে রেলকে ওই পড়ুয়াকে ৯ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুধু তাই নয়, কমিশন আরও কড়া অবস্থান নিয়ে জানিয়ে দিয়েছে—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি রেল এই ক্ষতিপূরণ না দেয়, তাহলে মোট জরিমানার উপর বছরে ১২ শতাংশ হারে সুদও গুনতে হবে। দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে আইনি লড়াই চালানোর পর অবশেষে সুবিচার পেয়ে স্বস্তি ও খুশি প্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।








