আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ১০০ শতাংশ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে Election Commission of India। যারা ভোটারদের ভয় দেখানো বা বুথ দখলের মতো বেআইনি কাজের পরিকল্পনা করছেন, তাদের উদ্দেশে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে (WB Vote 2026)। রাজ্যের স্পেশাল রোল অবজারভার Subrata Gupta জানিয়েছেন, কোনও ভোটারকে বুথে আসতে বাধা দেওয়া হলে সেই ঘটনাকে সরাসরি ‘বুথ দখল’ হিসেবে ধরা হবে। শুধু তাই নয়, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ওই বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণ বা Re-poll-এর নির্দেশ দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, ভোট প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে এবার কমিশন আগেই কড়া অবস্থান নিয়েছে।
তবে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার। Election Commission of India জানিয়েছে, রাজ্যজুড়ে প্রায় ২ লক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে, যার মধ্যে অনেকগুলোই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করবে। এই স্মার্ট ক্যামেরাগুলো সরাসরি কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, ফলে যেকোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সঙ্গে সঙ্গেই নজরে আসবে। নিয়ম অনুযায়ী, ইভিএম-এর কাছে একজনের বেশি ব্যক্তি গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বাজবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে। শুধু তাই নয়, যদি বুথের ভিতরে চারজনের বেশি অনধিকারপ্রবেশকারী ঢুকে পড়ে, তাহলেও মুহূর্তের মধ্যে সেই তথ্য কন্ট্রোল রুমে পৌঁছে যাবে।
ভোট প্রক্রিয়াকে আরও সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ রাখতে বুথ থেকে শুরু করে টহলদারি গাড়ি—সব জায়গাতেই সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে Election Commission of India। এই নজরদারি তিন স্তরে পরিচালিত হবে—প্রথমে স্থানীয় পর্যায়ে, এরপর জেলা শাসকের দপ্তরে এবং সবশেষে সরাসরি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিস থেকে পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি সংবেদনশীল জায়গায় বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখতে প্রায় ২,৫০০ জন মাইক্রো-অবজারভারও মোতায়েন করা হচ্ছে, যাতে ভোট চলাকালীন কোনও ধরনের অনিয়ম বা গড়মিল দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
