JKNews24 Disk: মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে রোববার (১ মার্চ) খবর প্রকাশ করেছে ইরানি বার্তাসংস্থা Tasnim News Agency ও Fars News Agency, যা উদ্ধৃত করেছে Al Jazeera। খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার সকালে তার প্রাসাদ লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী হামলা চালায় বলে জানা যায়। এরপর রাতেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu প্রথমে তার মৃত্যুর দাবি করেন এবং পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump একই তথ্য নিশ্চিত করেন। যদিও শুরুতে ইরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত আজ সকালে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে তাদের প্রধান ধর্মীয় নেতা আর নেই।
ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর—সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণের প্রায় সব ক্ষেত্রেই তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই কার্যকর হতো। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন শাহ মুহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি-কে ক্ষমতাচ্যুত করে যে ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত হয়, তার নেতৃত্ব দেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এবং বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে তিনিই হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যু হলে তার উত্তরসূরি হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন খামেনি, এবং এরপর থেকে কয়েক দশক ধরে তিনিই ইরানের রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেন।
