JKNews24 Disk: নির্বাচনের আবহে উদ্বেগজনক ছবি সামনে এল West Bengal-এর Paschim Medinipur জেলার কেশপুরের মহিষদা গ্রামে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাকা সেতুর দাবি জানানো হলেও প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের বাঁশের পোলে ভরসা করেই ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। একদিকে পরীক্ষার পড়াশোনার চাপ ও মানসিক দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে প্রতিদিন প্রাণ হাতে করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর লড়াই—সব মিলিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন পড়ুয়া ও তাঁদের পরিবার।
দেবের জন্মভূমিতে অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা
স্থানীয় রিপোর্ট মোতাবেক, ঘাটালের সাংসদ তথা অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেবের জন্মভূমি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুরের মহিষদা গ্রামে পারাং নদীর উপর সেতু নির্মাণ নিয়ে অনেকবার প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছিল এলাকাবাসী। কিন্তু কেউই কোনো পদক্ষেপ করেনি। এদিকে মহিষদ রামনারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্র পড়েছে আন্দিচক উচ্চ বিদ্যালয়ে। তাই সেখানে যাওয়ার জন্য এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া বেশ সুবিধাজনক হবে পরীক্ষার্থীদের। শেষে বাধ্য হয়েই গ্রামের মানুষ বাঁশের তৈরি অস্থায়ী পোল তৈরি করে আর তা দিয়েই ঝুঁকিপূর্ণভাবে ছাত্র-ছাত্রীরা সাইকেল নিয়ে পারাপার করে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে।
প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাবার পরীক্ষার্থীদের
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পারাং নদীর এক প্রান্তে রয়েছে ১০ নম্বর কেশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাপাসগেড়িয়া গ্রাম এবং অপর প্রান্তে ১২ নম্বর সরিষাকলা গ্রাম পঞ্চায়েতের কুদমিচক গ্রাম। এই দুই গ্রামের সংযোগ এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে একটি অস্থায়ী বাঁশের ব্রিজের উপরেই। পরীক্ষার্থীরা জানাচ্ছে, গ্রামেরই একজন সাংসদ থাকলেও তাঁদের আজও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়ে পরীক্ষা দিতে যেতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও বেদনাদায়ক। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, এই নদীর উপর একটি স্থায়ী ও মজবুত সেতু নির্মাণ করা হোক—আজ না হোক, অন্তত আগামী ব্যাচের ছাত্রছাত্রীরা যেন নিরাপদে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিকল্প একটি রাস্তা থাকলেও সেটি অনেকটাই ঘুরপথে, ফলে সময় ও কষ্ট দুটোই বেশি হয়।
কুদমিচক গ্রামের বাসিন্দাদের প্রতিদিনের দুর্ভোগ যেন শেষই হচ্ছে না। চিকিৎসা করাতে হোক বা জরুরি কোনও কাজের জন্য ব্লক অফিসে যেতে হোক—প্রায় ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে কেশপুর হাসপাতালে বা ব্লক উন্নয়ন দফতরে পৌঁছাতে হয়। একদিকে দীর্ঘ ঘুরপথ, অন্যদিকে অস্থায়ী বাঁশের ব্রিজ দিয়ে নদী পারাপারের ভয়—দুই দিক থেকেই চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন স্থানীয় মানুষ। বিশেষ করে বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এই বিষয়ে কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন গরাই জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে রয়েছে। একটি পাকা সেতু নির্মাণে কয়েক কোটি টাকার প্রয়োজন, তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ছাত্রছাত্রীদের আর এভাবে কষ্ট করে যাতায়াত করতে না হয়, সে দিকেই গুরুত্ব দিয়ে খুব শীঘ্রই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
