JKNews24 Desk: বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে পরিচিত চিনের আর্থিক ভিত যে বর্তমানে চাপের মুখে, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না (Economy of China)। বাইরে থেকে ঝকঝকে উন্নয়নের ছবি দেখা গেলেও ভেতরে ভেতরে চিনের অর্থনীতিতে এখন কালো মেঘ জমছে। অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা, বাজারে ক্রেতার অভাব এবং লাগামছাড়া ঋণের বোঝা—এই সব মিলিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও টালমাটাল হয়ে উঠছে।
জিনিসপত্রের দামে বিরাট পতন (Economy of China)
সম্প্রতি ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চিনে প্রায় ৭০টিরও বেশি দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্যের দাম ভোক্তা মূল্য সূচকের তুলনায় অনেক দ্রুত হারে কমছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ক্ষেত্রেই এই মূল্যপতন সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনে উৎপাদনের পরিমাণ এতটাই বেড়ে গেছে যে সেই অনুপাতে বাজারে পর্যাপ্ত ক্রেতা নেই। ফলে মানুষের কেনাকাটার আগ্রহ বাড়াতে সরকার বাধ্য হয়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমানোর পথে হাঁটছে।
জিনপিং সরকারের দাবি অনুযায়ী, চিনের অর্থনীতি এখন প্রায় ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে বিপুল ঋণের বোঝা। রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালের শেষে চিনের মোট সরকারি ঋণ প্রায় ১৮.৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি বিদেশি ঋণের পরিমাণও কম নয়—বর্তমানে তা প্রায় ২.৩৭ থেকে ২.৪৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণ, বিশেষ করে বেসরকারি ও সাধারণ মানুষের ওপর ঋণের চাপ। ২০০৭–২০০৯ সালের বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দার পর থেকেই চিনে ঋণ নেওয়ার গতি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বেশ কয়েকটি মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে চিনের প্রাইভেট ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টরের ঋণ জিডিপির ১০৬ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ১৮৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এমনকি ২০২৫ সালের মধ্যে চিনের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বর্তমানে দেশের জিডিপির তুলনায় ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এদিকে আরেকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ সালে চিনের মাথাপিছু জিডিপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩,৮০০ মার্কিন ডলারে। ১৯৬০-এর দশকে যেখানে চিনের মাথাপিছু আয় ছিল ১০০ ডলারেরও কম, সেখানে আজ তা বহু গুণ বেড়েছে। যদিও এই অগ্রগতির বড় অংশই রফতানি নির্ভর। অর্থনীতিবিদদের মতে, পণ্যের দাম পড়ে যাওয়া, অভ্যন্তরীণ চাহিদার অভাব এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপ মিলিয়ে চিনের অর্থনীতি আগামী দিনে আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।








