ফের একবার চেনা আক্রমণাত্মক মেজাজেই দেখা গেল Dilip Ghosh-কে। সোমবার খড়গপুর স্টেশন সংলগ্ন বোগদা এলাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বাংলায় শান্তি ফেরানো, দুর্নীতি রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে ক্ষমতায় এলে Bharatiya Janata Party উত্তরপ্রদেশের মতো এখানেও ‘বুলডোজার’ নীতি প্রয়োগ করবে। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই নেওয়া হবে। আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে বাংলা ‘রামরাজ্য’-এর পথেই এগোবে।
এদিন সাংবাদিকদের সামনে তোপ দাগতে শোনা যায় Dilip Ghosh-কে। তিনি সরাসরি নিশানা করেন কলকাতার মেয়র তথা বিদায়ী মন্ত্রী Firhad Hakim-কে। দিলীপের দাবি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, দিল্লি, গুজরাট, মহারাষ্ট্র—এই সব রাজ্যে ইতিমধ্যেই ‘রামরাজ্য’ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তাই বাংলার মুসলমানরা কেন কাজের জন্য সেই রাজ্যগুলিতে যান। তার জবাব ফিরহাদের কাছেই চেয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বাংলায় মুসলমানদের সুরক্ষা নেই, বরং তথাকথিত ‘রামরাজ্যে’ তারা বেশি সুরক্ষিত। এমনকি কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “বাংলায় রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা হবেই, তাতে যদি ফিরহাদের অসুবিধা হয়, তাহলে তিনি অন্য রাজ্যে চলে যেতে পারেন।” পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ এদিন আরও দাবি করেন, তৃণমূলের সঙ্গে যারা ঘুরছেন, শেষ পর্যন্ত তারাই নাকি তাঁকে জেতাতে সাহায্য করবেন।
ভোটের মুখে শাসকদলের একের পর এক নেতাকে তলব করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই ভোটের আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে ব্যবহার করছে বিজেপি। এ প্রসঙ্গে দিলীপ জানান, এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। দুর্নীতির বিচার হবেই। বিজেপি এলে সবাইকে জেলে যেতে হবে।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
এছাড়াও এদিন ফের ‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন Dilip Ghosh। তাঁর কথায়, “বন্দেমাতরমের বিরোধিতা করা মানে দেশের বিরোধিতা করা, আর যারা এমন করবে তাদের দেশের বাইরে চলে যেতে বলা উচিত।” একই সঙ্গে বাঙালি ইস্যু তুলে Kirti Azad ও June Malia-র প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-কে কটাক্ষ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, রবিবার বাংলায় নির্বাচনী প্রচার সভায় বুলডোজার নিয়ে ফের হুমকির সুর শোনা গিয়েছিল উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মুখে। সোমবার তাঁকে পালটা জবাব দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা কোনও বুলডোজার নীতিতে বিশ্বাস করি না, আমরা ভালোবাসায় বিশ্বাসী।”
