JKNews24 Disk: ব্যক্তিগত জীবন আর আইনি মারপ্যাঁচ—টলিউড থেকে রাজনীতি, হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের সফরটা এখন বেশ ‘অ্যাকশন প্যাকড’ (Hiran Chatterjee)।। দ্বিতীয় বিয়ে সংক্রান্ত মামলায় আপাতত বড়সড় স্বস্তি পেলেন খড়গপুরের এই তারকা বিধায়ক। কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করায় আপাতত হাজতবাসের ভয় কাটল। তবে এই স্বস্তি কিন্তু শর্তহীন নয়। চলুন দেখে নিই ঠিক কী ঘটেছে এবং আইনের চোখে হিরণের অবস্থান এখন কোথায়।
মামলার প্রেক্ষাপট: অভিযোগ বনাম দাবি (Hiran Chatterjee)।
হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতেই সমস্যার শুরু। আনন্দপুর থানায় দায়ের করা সেই অভিযোগে দাবি করা হয়েছে যে, প্রথম বিবাহ আইনত টিকে থাকা অবস্থাতেই হিরণ দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।
বিষয়টা অনেকটা সিনেমার প্লটের মতো শোনালেও, বাস্তব জীবনে এর আইনি গুরুত্ব অপরিসীম। ভারতীয় বিচার ব্যবস্থায় প্রথম পক্ষের সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় বিয়ে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
হাইকোর্টের রায় ও জামিনের শর্ত (Hiran Chatterjee)।
বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। আদালত হিরণের আগাম জামিন মঞ্জুর করলেও কয়েকটি কড়া শর্ত জুড়ে দিয়েছে:
- তদন্তে সহযোগিতা: বিধায়ককে তদন্তের কাজে পুলিশকে সবরকম সাহায্য করতে হবে।
- নিয়মিত হাজিরা: প্রতি ১৫ দিন অন্তর তাঁকে তদন্তকারী অফিসারের (IO) সামনে হাজিরা দিতে হবে।
- শহরে ফেরা: মামলার শুরুতে তিনি কলকাতার বাইরে থাকলেও, আইনি প্রক্রিয়া লড়তে তিনি এখন শহরেই রয়েছেন।
আইনি মারপ্যাঁচ: ধারাগুলো কী বলছে?
পুলিশ সূত্রে খবর, হিরণের বিরুদ্ধে মূলত দুটি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে:
- ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৪৯৪ ধারা: স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় (এবং ডিভোর্স না হওয়া পর্যন্ত) পুনরায় বিয়ে করা।
- ৪৯৮এ ধারা: বিবাহিত মহিলার ওপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন।
এই ধারাগুলো বেশ গুরুতর। বিশেষ করে ৪৯৮এ ধারাটি জামিন অযোগ্য ছিল দীর্ঘকাল, যদিও এখন আদালতের পর্যবেক্ষণে এতে কিছুটা নমনীয়তা দেখা যায়।
হিরণের পরবর্তী পদক্ষেপ
বিধায়ক হিসেবে হিরণ চট্টোপাধ্যায় জনসমক্ষে বেশ সক্রিয়। তবে এই ব্যক্তিগত আইনি লড়াই তাঁর ভাবমূর্তিতে কেমন প্রভাব ফেলে, সেটাই দেখার। আদালতের নির্দেশে তদন্ত চলবে, আর সত্য বেরিয়ে আসবে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই।








