JKNews24 Disk: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। রোববার (১ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা Tasnim News Agency ও Fars News Agency তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই দিন সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম IRIB জানায়, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন।” এর আগে হামলার পর খামেনির মৃত্যুর দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
দুটি মার্কিন সূত্র ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে Reuters জানিয়েছে, শনিবার ভোরে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, ওই হামলায় খামেনি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলি শামখানি এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর ছিলেন বলে জানানো হয়। অন্যদিকে ইরানি একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হামলার ঠিক আগে শামখানি ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি-র সঙ্গে একটি সুরক্ষিত স্থানে বৈঠক করছিলেন খামেনি।
শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei-এর বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে Al Jazeera। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, তেহরানে অবস্থিত তার প্রাসাদের বড় অংশ ধসে পড়েছে এবং আশপাশের এলাকা কালো হয়ে গেছে—যা শক্তিশালী বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলার ধরন, ব্যবহৃত অস্ত্র কিংবা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
এদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন বলে একাধিক আন্তর্জাতিক মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ পোস্ট করে দাবি করেন, আয়াতুল্লাহ খামেনি নিজেও নিহত হয়েছেন।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম দুষ্টু ব্যক্তি, মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নয়, বরং সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেই মহান আমেরিকানদের জন্যও ন্যায়বিচার, যারা খামেনি ও তার রক্তপিপাসু সন্ত্রাসী দলের হাতে নিহত বা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। তিনি আমাদের গোয়েন্দা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার নজর এড়াতে পারেননি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা নিশ্চিত করেছি যে তিনি বা তার সঙ্গে নিহত অন্য নেতারা কিছুই করতে পারেননি।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ আরও লেখেন, “এটি ইরানের জনগণের জন্য নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা শুনছি যে তাদের আইআরজিসি, সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চান না এবং আমাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা (ইমিউনিটি) চাইছেন।”
তিনি যোগ করেন, “যেমন আমি গত রাতে বলেছি, ‘এখন তারা নিরাপত্তা পেতে পারে, পরে তারা শুধু মৃত্যুই পাবে!’ আশা করা যায়, আইআরজিসি ও পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে ইরানি দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে একীভূত হবে এবং একসঙ্গে কাজ করে দেশকে তার প্রাপ্য মহত্ত্বে ফিরিয়ে আনবে।”
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei-এর মৃত্যুর খবরে দেশটির সরকার ৭ দিনের সরকারি ছুটি এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে, এবং আন্তর্জাতিক মহল এখন তেহরানের আনুষ্ঠানিক ও পূর্ণাঙ্গ বিবৃতির অপেক্ষায় রয়েছে।
