JKNews24 Disk: এ যেন সত্যিই ইরানের ইতিহাসে এক যুগের অবসান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei-এর মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভি নিশ্চিত করেছে, এবং দাবি করা হচ্ছে ২০২৬ সালের ১ মার্চ মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। স্বাভাবিকভাবেই দেশের শীর্ষ নেতার মৃত্যুর খবরে সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তবে একই সঙ্গে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও। এই ঘটনার পর ইরান সরকার ৪০ দিনের জাতীয় শোক ও সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। প্রায় ৪৭ বছরের শাসনব্যবস্থার অবসানের প্রেক্ষাপটে এখন গোটা বিশ্বের নজর তেহরানের দিকে, আর এর মধ্যেই ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।
মৃত্যু ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনীর
ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) নাকি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত নতুন উত্তরসূরি বেছে নিতে চাইছে, যাতে শাসনব্যবস্থার ওপর তাদের প্রভাব অটুট থাকে—এমন জল্পনা এখন তেহরানজুড়ে। ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীতে Ayatollah Ali Khamenei-এর বাসভবন ও অফিস কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে হামলার দাবি ওঠে; প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি “শহীদ” হয়েছেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কথাও বলেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এটিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে বড় যৌথ অভিযান বলে উল্লেখ করেছেন, আর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী **Benjamin Netanyahu**ও বিবৃতিতে খামেনির মৃত্যুর কথা বলেছেন। ফলে এখন বড় প্রশ্ন—ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, এবং এই পালাবদল মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে?
অবশ্যই পড়ুন: সুরক্ষিত ভবনে খামেনির মৃত্যু: কীভাবে ঘটল কথিত হামলা?
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে?
Ayatollah Ali Khamenei-এর মৃত্যু ইরানের জন্য যে এক বিশাল ধাক্কা, তা বলাই বাহুল্য—দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা ক্ষমতার কাঠামো যেন এক মুহূর্তে কেঁপে উঠেছে। তার মৃত্যুর পর দেশটির সামরিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বিভ্রান্তির ছবি সামনে আসছে; Iran International-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কমান্ড চেইন দুর্বল হয়ে পড়ায় আদেশ বাস্তবায়নে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই অবস্থায় ইরানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভেঙে পড়া সামরিক কাঠামো সামাল দেওয়া এবং এমন একজন গ্রহণযোগ্য নেতা খুঁজে বের করা, যিনি একদিকে প্রশাসনিক স্থিতি ফিরিয়ে আনতে পারবেন, অন্যদিকে জনরোষ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবেন।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
সূত্রের খবর, IRGC সাংবিধানিক সংস্থা, বিশেষজ্ঞ পরিষদ ছাড়াই নতুন নেতা নিয়োগের জন্য চাপ দিচ্ছে। তারা চায় রবিবারের মধ্যে নতুন নেতার নাম চূড়ান্ত করা হোক। সামরিক বাহিনী আশঙ্কা করছে যে নিয়োগ বিলম্বিত করলে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে।
