ঘামের গন্ধে লজ্জা? ফিটকিরিতে ঘামের গন্ধ দূর হবে?

- Advertisement -

গরমের দিনে বা একটু পরিশ্রম করলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়—এটা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন সেই ঘাম থেকে দুর্গন্ধ আসতে শুরু করে এবং ত্বক কালো হয়ে যায়, তখন সেটা সত্যিই বিব্রতকর হয়ে উঠতে পারে। অফিসে মিটিংয়ে, বন্ধুদের সাথে আড্ডায়, বা কারো সাথে কথা বলার সময়—ঘামের দুর্গন্ধ আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়।

বাসে বা ভিড়ের মধ্যে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কেউ যদি হঠাৎ হাত তোলে আর আপনার মনে হয় যে আপনি কোনো কেমিক্যাল কারখানায় ঢুকে পড়েছেন, তবে দোষটা আসলে প্রকৃতির। কিন্তু সেই ‘প্রকৃতি’ যখন আপনার নিজের শরীর থেকে বের হয়, তখন সেটা বিড়ম্বনার চরম সীমা ছাড়িয়ে যায়। ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ে আমরা কম-বেশি সবাই নাজেহাল। পারফিউম বা ডিওডোরেন্ট তো আছেই, কিন্তু দাদী-নানীদের আমলের সেই সস্তা ‘ফিটকিরি’ কি আসলেও কাজ করে?

ফিটকিরিতে কী

ফিটকিরির সঙ্গে আমাদের সকলেরই পরিচয় আছে। ছোটবেলায় যখন বাবা, জেঠু বা কাকারা দাড়ি কাটতেন, তখন তাদের হাতে প্রথম ফিটকিরি দেখেছিলাম (benefits of using Fitkiri)। পাড়ার সেলুনেও ফিটকিরির দেখা পাওয়া যেত। আসলে, এটি একটি অ্যান্টিসেপটিক বা অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ফিটকিরিতে রয়েছে অনেক গুণ। এতে পটাশিয়াম অ্যালুমিনাম সালফেট থাকে, যা ত্বকের নানা সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ফেসিয়াল করার সময় অনেকেই এটি মুখে মাখেন, কারণ এটি ত্বককে টানটান রাখতে সাহায্য করে এবং আপনার ত্বক কিন্তু সহজে ঝুলে যাবে না।

--Advertisement--

ফিটকিরিতে কী কী গুণ রয়েছে (benefits of using Fitkiri)

ফিটকিরিতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিসেপটিক উপাদান, যা মুখে মাখলে ত্বককে স্বাস্থ্যকর রাখে। এর মধ্যে পটাশিয়ামও থাকে, যা ইংরেজিতে “আলুম” নামে পরিচিত। মাত্র ৫ টাকার এই ফিটকিরি দিয়েই আপনি আপনার ত্বক উজ্জ্বল রাখতে পারেন এবং মুখের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করতে পারেন। কীভাবে করবেন, তা জানতে পুরোতা পড়ুন।

ফিটকিরিতে ঘামের গন্ধ দূর হবে?

হ্যাঁ, ফিটকিরি ঘামের গন্ধ দূর করতে সাহায্য করতে পারে। এটি একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক, যা ত্বকে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া কমাতে সাহায্য করে, ফলে ঘামের গন্ধও কমতে পারে। যদি কারোর শরীর থেকে খুব বেশি দুর্গন্ধ বের হয়, যেমন বর্ষাকালে বা গরমকালে অনেকেই বগল থেকে ভীষণ দুর্গন্ধের সমস্যায় পড়েন, তাহলে পাশে দাঁড়ানো সত্যিই কঠিন হতে পারে। অনেক সময় স্নান করার পরেও এই দুর্গন্ধ দূর করা যায় না। এই পরিস্থিতিতে, বগলে ফিটকিরি ঘষা এক সহজ সমাধান হতে পারে। ফিটকিরি ব্যবহার করে আপনার বগল থেকে ঘামের গন্ধ দূর করা সম্ভব।

--Advertisement--

ফিটকিরিতে মুখের বলিরেখা দূর হবে?

ফিটকিরি মুখের বলিরেখা সরাসরি দূর করতে পারে না, তবে এটি ত্বককে টানটান রাখতে সাহায্য করে। মুখের বলিরেখা কমাতে আপনি ফিটকিরি দিয়ে মুখে ম্যাসেজ করতে পারেন। এতে আপনার মুখের উজ্জ্বলতা বাড়বে এবং মুখের ছিদ্র বা কালো দাগও সহজেই কমতে পারে। ফিটকিরির এই বিশেষ গুণ ত্বককে টানটান ও পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

ক্ষত সারতে ফিটকিরি ব্যাবহার

ক্ষত সারাতে ফিটকিরি ব্যবহার করতে পারেন, কারণ এটি একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক। ফিটকিরি ক্ষতের জায়গায় প্রয়োগ করলে ব্যাকটেরিয়া কমে যায়। যদি আপনার কোথাও কেটে যায় বা ছোটখাটো ক্ষত হয়, ফিটকিরি ব্যবহার করতে পারেন। এটি সহজেই সংক্রমণের জ্বালা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে এবং ক্ষত দ্রুত সারাতে সহায়তা করে।

মুখের ঘা বা ফোলাভাব দূর হবে

হ্যাঁ, ফিটকিরি মুখের ঘা বা ফোলাভাব দূর করতে সাহায্য করতে পারে। আপনি কি জানেন, ফিটকিরির জল মুখে দিয়ে কুলকুচি করলে মুখের ঘা এবং ফোলাভাব দূর হতে পারে? ত্বকে চুলকানি বা ফোলাভাব থাকলেও এটি কার্যকরী হতে পারে। ফিটকিরির এর অ্যান্টিসেপটিক গুণাগুণ মুখের ঘা বা ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।

ফিটকিরিতে ত্বক উজ্জ্বল হবে?

হ্যাঁ, ফিটকিরি ব্যাবহারে ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টিসেপটিক ও টানটান করার গুণাগুণ ত্বককে মসৃণ এবং টানটান রাখতে সাহায্য করে। ফিটকিরি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে এবং পোরস সংকীর্ণ করতে সহায়ক হতে পারে, ফলে ত্বক আরও উজ্জ্বল এবং স্বচ্ছ দেখায়।

ফিটকিরিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য থাকে, যা ত্বকের ফোলা ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ত্বকের যেকোনও জায়গায় ফুলে গেলে আপনি ফিটকিরি ঘষতে পারেন এবং এতে খুব সহজেই আরাম পাবেন। এটি ত্বককে শান্ত করতে সহায়তা করে এবং ত্বক উজ্জ্বলও করতে পারে। তবে, যদি আপনার অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে, তাহলে ফিটকিরি ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো।

ফিটকিরি ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

শুধু ফিটকিরি ঘষলেই হবে না, এর একটা নির্দিষ্ট ম্যানার আছে। ভুলভাবে ব্যবহার করলে ত্বকে র‍্যাশ উঠতে পারে।

  1. পরিষ্কার ত্বক: গোসলের পর ত্বক যখন হালকা ভেজা থাকে, তখন এটি ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর।
  2. হালকা ঘর্ষণ: ফিটকিরির টুকরোটি সামান্য পানিতে ভিজিয়ে নিন। এরপর বগলে বা ঘাম হওয়া জায়গায় আলতো করে ২-৩ বার ঘষুন।
  3. শুকিয়ে নেওয়া: ব্যবহারের পর জায়গাটি প্রাকৃতিকভাবে শুকাতে দিন। তোয়ালে দিয়ে ঘষবেন না।
  4. ফিটকিরি পরিষ্কার রাখা: ব্যবহারের পর ফিটকিরির টুকরোটি ধুয়ে শুকনা জায়গায় রাখুন, যাতে তাতে ব্যাকটেরিয়া না জমে।

সাবধানতা: সবাই কি ফিটকিরি ব্যবহার করতে পারবেন?

সবকিছুরই একটা ‘বাট’ (But) থাকে। ফিটকিরি প্রাকৃতিক হলেও সবার জন্য এটি সেরা সমাধান নাও হতে পারে।

  • অত্যধিক শুষ্কতা: যাদের ত্বক আগে থেকেই খুব ড্রাই, তারা ফিটকিরি ব্যবহার করলে চামড়া ফেটে যেতে পারে।
  • শেভিংয়ের পর: শেভ করার ঠিক পরপরই ফিটকিরি লাগালে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া হতে পারে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ।
  • দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয়: আপনার যদি ‘হাইপারহাইড্রোসিস’ (অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার রোগ) থাকে, তবে ঘরোয়া টোটকার চেয়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

- Advertisement -
Dipika Sorkar
Dipika Sorkar
Dipika Sorkar একজন Lifestyle Content Writer, যিনি দৈনন্দিন জীবনযাপন, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা, ফ্যাশন, বিউটি টিপস এবং আধুনিক লাইফস্টাইল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। সহজ ও বাস্তবধর্মী ভাষায় পাঠকের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে—এমন কনটেন্ট তৈরি করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
Latest news
- Advertisement -
Related news