JKNews24 Disk: ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচন আর বেশি দূরে নেই। তার আগেই আজ রাজ্যের সপ্তদশ বিধানসভা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃতীয় সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেট (Bengal Budget 2026) পেশ করা হয়েছে। ভোটের আগে এটি শেষ রাজ্য বাজেট হওয়ায় সাধারণ মানুষ আগেই কল্পনা করছিল নানা চমকের। এবার সেই কল্পনা বাস্তবে রূপ নিল—রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-এর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, যা শুনে রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে আনন্দের ঢেউ বইছে।
বাড়ল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অর্থের পরিমাণ
রিপোর্ট মোতাবেক অন্তর্বর্তী বাজেট ঘোষণায় মহিলাদের জন্য দারুণ চমক আনল রাজ্য সরকার। অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করে জানিয়েছেন যে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে মাসে ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হল উপভোক্তাদের জন্য। অর্থাৎ এই প্রকল্পে তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা এত দিন যে ১২০০ টাকা করে ভাতা পেতেন, তা বেড়ে হচ্ছে ১৭০০ টাকা। এবং বাকি মহিলাদের ক্ষেত্রেও ভাতা ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হল ১৫০০ টাকা। অর্থাৎ, ভোটের ঠিক আগেই লক্ষ্মীলাভ হল। যদিও এই চমককে অন্য চোখে দেখছে রাজনীতিবিদরা। তাঁদের মতে ভোটের মুখে এই বৃদ্ধি আসলে মমতার মাস্টারস্ট্রোক।
অবশ্যই পড়ুন: তৃণমূল নেতার হোটেলে রমরমিয়ে মধুচক্র, গ্রেফতার ৪ জন
মহিলা ভোট ব্যাংক বৃদ্ধিতেই চমক
রাজ্য প্রকল্পের ভাতা নিয়ে বিরোধীরা বারবার কটাক্ষ করলেও, এবার রাজ্য সরকার সেই ভাতাকেই প্রধান ফোকাস করেছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৫০০ টাকা। মনে রাখা যায়, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত এই প্রকল্প এবার ভোটের আগে কাজে লাগানো হয়েছে, মূলত মহিলা ভোট ব্যাংকের গুরুত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলার অন্তর্বর্তী বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধীরা কটাক্ষ করেছেন, এটিকে ‘ভোটের চমক’ হিসেবে দেখছেন। তবে শাসকদলের যুক্তি, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, সেই সময়ে এই অর্থবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের পকেটে স্বস্তি যোগ করবে। ফলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের এই বৃদ্ধি রাজ্যের মহিলাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।