যুব সাথীর টাকা (Yuva Sathi Payment) নিয়ে এখন অনেকেরই চিন্তা বাড়ছে—কারও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে না, আবার কারও ক্ষেত্রে মেসেজ এলেও পেমেন্ট আসছে না। যদিও টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে, তবুও সাম্প্রতিক আপডেট বলছে এখনও অনেক আবেদনকারী টাকা পাননি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সমস্যা ঠিক কোথায়? কেনই বা টাকা আটকে রয়েছে? এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীও এই বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তাই পুরো বিষয়টা পরিষ্কারভাবে জানতে হলে আজকের এই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়া জরুরি।
Yuva Sathi Payment
এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গত ৭ মার্চ থেকেই Mamata Banerjee-এর ঘোষণা অনুযায়ী যুব সাথীর পেমেন্ট দেওয়া শুরু হয়ে যায়। তবে অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলেও, এখনও বেশ কিছু আবেদনকারী পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যার মুখে পড়ছেন। এমনও দেখা যাচ্ছে, কারও অ্যাপ্রুভাল মেসেজ এবং ট্রেজারি থেকে মেসেজ আসার পরেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছাচ্ছে না। এই বিষয়টি নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ও আলোচনা বাড়ছিল। তবে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পেমেন্ট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।
যুবসাথী প্রকল্প আসলে কী?
চলতি বছরের বাজেটে শুরু হওয়া যুব সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীদের জন্য মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো, যতদিন পর্যন্ত তারা কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থান না পাচ্ছেন, ততদিন আর্থিকভাবে সহায়তা করা। নির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই ভাতা সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত দেওয়া হবে। তবে এই সময়ের মধ্যে যদি কেউ চাকরি পেয়ে যান, তাহলে তাঁর ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
কোথায় কেন আটকে রয়েছে যুবসাথীর টাকা?
রাজ্যজুড়ে অসংখ্য আবেদনকারীর মনে এখন একটাই প্রশ্ন—“যুবসাথীর টাকা কেন আসছে না?” প্রশাসনিক সূত্র ও সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, এর পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, রাজ্য সরকারের ট্রেজারিতে কিছু টেকনিক্যাল ও অভ্যন্তরীণ জটিলতা দেখা দিয়েছিল, যার ফলে ফান্ড রিলিজ বা টাকা ছাড়ার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে ধীর হয়ে যায়—বিশেষ করে অর্থবর্ষের শেষের দিকে এমন সমস্যা অনেক সময়ই দেখা যায়। দ্বিতীয়ত, যুবসাথী প্রকল্পে বিপুল সংখ্যক নতুন আবেদন জমা পড়েছে, পাশাপাশি পুরনো আবেদনকারীদের তথ্যও নিয়মিত যাচাই করতে হচ্ছে, ফলে এই বিশাল ডেটা ভেরিফিকেশনের জন্য প্রশাসনিক স্তরে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগছে। আর সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে ডি বি টি (Direct Benefit Transfer) সক্রিয় না থাকা—অনেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার সিডিং বা কেওয়াইসি আপডেট না থাকায় ডি বি টি চালু নেই, যার কারণে সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে সমস্যা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা
সম্প্রতি পাণ্ডবেশ্বরের এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে বড় আপডেট দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, “যুবসাথীর টাকা সবাইকেই দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক কিছু প্রক্রিয়া বাকি থাকার কারণে টাকা পৌঁছাতে দেরি হতে পারে, তবে চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। সবাই টাকা পেয়ে যাবেন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পর সুবিধাভোগীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

