JKNews24 Disk: দরিদ্র পরিবারগুলির কাছে মেয়ের বিয়ে মানেই বড় আর্থিক চাপ। সেই দুশ্চিন্তা কিছুটা লাঘব করতে বড় ঘোষণা করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী গণবিবাহ যোজনা (Mukhyamantri Samuhik Vivah Yojana)-র আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করার কথা জানানো হয়েছে। বুধবার বিধানসভায় প্রায় ৯.১ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী সুরেশ খান্না। গত বছরের তুলনায় এবারের বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ১২.৯ শতাংশ। জানা গিয়েছে, এবার এই প্রকল্পের আওতায় বিয়ের জন্য রাজ্য সরকার থেকে ১ লক্ষ টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
মেয়ের বিয়েতে ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা (Mukhyamantri Samuhik Vivah Yojana)
জানিয়ে রাখা ভালো, এতদিন এই প্রকল্পে প্রতি কন্যার বিয়েতে মোট ৫১,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো। এর মধ্যে ৩৫,০০০ টাকা সরাসরি কনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে, ১০,০০০ টাকা বিয়ের সামগ্রী কেনার জন্য এবং ৬,০০০ টাকা বিবাহ অনুষ্ঠানের খরচ বাবদ দেওয়া হতো। তবে এবার সেই সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে করা হয়েছে ১,০১,০০০ টাকা প্রতি কন্যা পিছু, যা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পের জন্য বড় অঙ্কের তহবিলও বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। গণবিবাহ যোজনার জন্য মোট ৭৫০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে বাজেটে। এর পাশাপাশি তপশিলি জাতি ও দরিদ্র পরিবারের কন্যাদের জন্য ১০০ কোটি টাকা এবং সাধারণ শ্রেণির আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের মেয়েদের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য স্পষ্ট— বিয়ের আর্থিক চাপ কমিয়ে সমাজের প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো।
কারা পাবে এই সুবিধা?
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী গণবিবাহ যোজনার সুবিধা পেতে হলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে। আবেদনকারী পরিবারের বার্ষিক আয় ২ লক্ষ টাকার কম হতে হবে। পাশাপাশি কনের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং পাত্রের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক। দু’জনকেই অবিবাহিত হতে হবে। এই প্রকল্পের সুবিধা সমস্ত সম্প্রদায়ের পরিবার পেতে পারে, তবে সংশ্লিষ্ট ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নিয়ম মেনেই বিয়ের আয়োজন করতে হবে। সরকারের লক্ষ্য, স্বচ্ছ নিয়ম মেনে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
কীভাবে আবেদন করবেন?
এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য প্রথমে সরকারি ওয়েবসাইট shadianudan.upsdc.gov.in এ যেতে হবে। তারপর Collective Marriage Grant Scheme ফর্ম ডাউনলোড করে সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে। তারপর প্রয়োজনে নথি সংযুক্ত করে নিকটবর্তী গ্রাম পঞ্চায়েত, পৌরসভা বা জেলা সমাজকল্যাণ দফতরে গিয়ে জমা দিতে হবে। তাহলেই বিয়ের আগে এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা মিলবে।









