JKNews24 Desk: অনেকেই মনে করেন যে শুধুমাত্র স্যালারি স্লিপ থাকলেই ব্যাঙ্ক থেকে লোন নেওয়া সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে কিছু বড় ব্যাঙ্ক স্যালারি স্লিপ ছাড়াও আপনাকে পার্সোনাল লোন, হোম লোন বা কার লোনের সুবিধা দিতে পারে। এর জন্য সাধারণত ব্যাঙ্ক কিছু বিকল্প নথি বা ক্রেডিট যাচাই প্রক্রিয়া ব্যবহার করে।
বর্তমানে আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ৯টা থেকে ৫টার প্রথাগত চাকরিতে নন, বরং ফ্রিল্যান্সিং বা ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। অনেকের আয়ের উৎস থাকলেও নির্দিষ্ট কোনো স্যালারি স্লিপ বা বেতনের রসিদ থাকে না। এক সময় ব্যাঙ্ক থেকে পার্সোনাল লোন বা ব্যক্তিগত ঋণ পেতে স্যালারি স্লিপ ছিল প্রধান শর্ত, আর এটি না থাকলে লোন বাতিল হয়ে যেত সাধারণ বিষয়। কিন্তু সুখবর হলো, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের কারণে এখন স্যালারি স্লিপ একমাত্র ভরসা নয়। নিয়মিত আয় এবং কিছু নির্দিষ্ট নথি থাকলেই খুব সহজেই লোনের জন্য আবেদন করা সম্ভব।
পার্সোনাল লোন স্যালারি স্লিপের বিকল্প হিসেবে কোন কোন নথি গ্রহণযোগ্য?
ঋণদাতার মূল উদ্দেশ্য হলো আপনি ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম কি না তা যাচাই করা। তাই বেতনের কাগজ না থাকলে নিচের নথিগুলি আপনার আয়ের প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে:
| নথিপত্র (Documents) | কেন প্রয়োজন? |
|---|---|
| ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট (গত ৬ মাসের) | আপনার অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা ঢোকে কি না এবং ক্যাশ ফ্লো কেমন তা দেখার জন্য। |
| আয়কর রিটার্ন (ITR) | গত ২ বছরের ITR ফাইল আপনার বার্ষিক আয়ের সবথেকে বড় প্রমাণ। |
| ফর্ম ১৬ বা এমপ্লয়মেন্ট লেটার | যদি কোনো সংস্থায় কাজ করেন কিন্তু স্লিপ না পান, তবে এই নথি কাজে আসবে। |
| জিএসটি রিটার্ন (GST Returns) | ব্যবসায়ী বা ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষেত্রে ব্যবসার অস্তিত্ব ও আয়ের প্রমাণ হিসেবে এটি অত্যন্ত জরুরি। |
| অন্যান্য আয়ের প্রমাণ | বাড়ি ভাড়া, কমিশন বা বিনিয়োগ থেকে আসা আয়ের নথিও জমা দেওয়া যেতে পারে। |
পার্সোনাল লোন পেতে ক্রেডিট প্রোফাইল মজবুত করা জরুরি
যখন আপনার হাতে স্যালারি স্লিপ নেই, তখন ব্যাঙ্ক আপনার ‘ক্রেডিট ওয়ার্ডিনেস’ বা ঋণ নেওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে আপনার আর্থিক ইতিহাসের ওপর বেশি ভরসা করে। তাই লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখুন:
- ক্রেডিট স্কোর বা CIBIL: আপনার সিবিল স্কোর অবশ্যই ৭৫০ বা তার বেশি হওয়া উচিত। এটি আপনার আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতীক।
- ঋণ ও আয়ের অনুপাত: আপনার আয়ের তুলনায় বর্তমান ঋণের বোঝা খুব বেশি না হওয়া উচিত। কম ডেট-টু-ইনকাম রেশিও থাকলে ব্যাঙ্কের আস্থা বাড়ে।
- কাজের স্থায়িত্ব: আপনি যে পেশা বা ব্যবসায় আছেন, সেখানে কয়েক বছরের স্থিতিশীলতা বা স্টেবিলিটি দেখাতে পারলে লোন পাওয়া সহজ হয়।
- সহ-আবেদনকারী বা Co-applicant: যদি আপনার ক্রেডিট স্কোর কিছুটা কম হয়, পরিবারের এমন কাউকে সহ-আবেদনকারী হিসেবে যুক্ত করুন যার স্কোর ভালো। এতে লোন পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়ে।
পার্সোনাল লোন কোথা থেকে পাবেন?
বর্তমানে অনেক প্রাইভেট ব্যাঙ্ক, ডিজিটাল লেন্ডিং প্ল্যাটফর্ম এবং এনবিএফসি (NBFC) এই ধরনের ঋণ প্রদান করে থাকে। তারা মূলত আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত লেনদেন হচ্ছে কি না এবং অতীতে কোনো EMI বা ঋণের কিস্তি বাউন্স হয়েছে কি না, সেই দিকে নজর দেয়। তবে আবেদন করার আগে অবশ্যই সুদের হার, প্রসেসিং ফি এবং অন্যান্য শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করে নিন, যাতে পরে অপ্রত্যাশিত খরচ বা সমস্যা না হয়।
দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য। ঋণ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলী ভালো করে পড়ে নিন এবং প্রয়োজনে আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।









