ভোটের প্রচারের গরমে এবার বড় চাঞ্চল্য দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। নাকা চেকিংয়ের সময় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা-সহ ধরা পড়লেন দুই বিজেপি নেতা, ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা এলাকায়। ডায়মন্ড হারবারের উস্তি থানা এলাকায় পুলিশ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে বলে জানা গিয়েছে। ধৃত দুই নেতার নাম অরুনাভ মজুমদার ও অক্ষয় চক্রবর্তী—কী কারণে এত টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে, বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস আগেই অভিযোগ তুলেছিল যে Bharatiya Janata Party রাজ্যে টাকা ঢুকিয়ে ভোটে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে। একই অভিযোগ বারবার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-ও, যার জেরে এই ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিল।
ভোটের কারণে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন জায়গায় নাকাচেকিং চলছে। বেআইনি অস্ত্র, টাকা যাতে রাজ্যে না ঢোকে সেদিকে নজরদারি চলছে। আজ, সোমবার সকালে উস্তি থানার হটুগঞ্জ মোড়ে নাকাচেকিং চলছিল। সেসময় একটি চারচাকা গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িতে থাকা ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে পড়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা! গাড়িতে দুই ব্যক্তি ছিলেন। তাঁদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু বিপুল পরিমাণ টাকার কোনও সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপরই টাকা, গাড়ি-সহ ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। জানা যায়, মোট ৯ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে।
পরে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধৃত দুই ব্যক্তিই Bharatiya Janata Party-র সঙ্গে যুক্ত। অরুনাভ মজুমদার কলকাতার আরকে পাল লেনের বাসিন্দা, তিনি বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য এবং ১৪২ মগরাহাট (পশ্চিম) বিধানসভা কেন্দ্রের ইনচার্জ। অন্যদিকে, শ্রীচন্দা, তপনার বাসিন্দা অক্ষয় চক্রবর্তী ওই একই বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি কনভেনার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। দু’জনকেই পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। এত বড় অঙ্কের নগদ টাকা তাঁরা কোথা থেকে পেলেন, কোথায় নিয়ে যাচ্ছিলেন এবং এর পেছনে কোনও নির্বাচনী যোগ আছে কি না—সব দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -
গাড়ির চালককেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গাড়িটি কুলপির দিক থেকে আসছিল। ধরা পড়া দুই বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, মগরাহাট (পশ্চিম) বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনের কাজে লাগানোর জন্য এই টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই টাকা পার্টি ফান্ডের। ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে বিজেপি-তৃণমূল তরজা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। মথুরাপুর লোকসভার All India Trinamool Congress সাংসদ Bapi Haldar দাবি করেছেন, “বিজেপি টাকা দিয়ে মানুষের ভোট কেনার চেষ্টা করে, এবারও সেই চেষ্টাই হচ্ছিল এবং হাতেনাতে ধরা পড়েছে।” তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল যে অভিযোগ করে আসছিল, এই ঘটনার মাধ্যমে তা প্রমাণিত হল। অন্যদিকে, Bharatiya Janata Party নেতা Sufal Ghatu পাল্টা জানান, উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা আদৌ ওই দুই বিজেপি নেতার কাছ থেকেই পাওয়া গিয়েছে কিনা, সে বিষয়ে দল নিশ্চিত নয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের আগে বিজেপিকে ফাঁসাতে এটি পূর্বপরিকল্পিত কোনও চক্রান্ত হতে পারে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে দল।
