JKNews24 Desk: ২০২৬ সালের জন্য প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনায় (PM Kisan Registration) নতুন করে আবেদন শুরু হয়েছে। যারা কৃষক বন্ধু (Krishak Bandhu) হিসেবে এখনও আবেদন করেননি, বা আগের আবেদনের পরও টাকা পাননি, তারা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদন করার আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জানা জরুরি—যেমন যোজনার সুবিধা, আবেদন পদ্ধতি, নিয়ম-কানুন এবং প্রয়োজনীয় নথি।
Table of Contents
PM Kisan Registration 2026
উন্নত কৃষি ব্যবস্থার স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়মিত কৃষকদের জন্য নানা জনহিতকর প্রকল্প চালু করে। এর মধ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি’ বা পিএম কিষান যোজনাটি সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি বছর মোট ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের জন্য এই যোজনায় নতুন করে রেজিস্ট্রেশন (PM Kisan Registration 2026) ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে এবারে নিয়ম-কানুন এবং শর্তাবলীতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা প্রত্যেক কৃষকের জানা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক তথ্য না জানা বা আবেদনের সময় সামান্য ভুল হলে আবেদনপত্র সরাসরি বাতিল হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার সুবিধা
- বার্ষিক আর্থিক সহায়তা: কিষাণ যোজনার মাধ্যমে যোগ্য কৃষক পরিবার বছরে মোট ৬,০০০ টাকা পাবেন।
- সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা: অর্থ সরাসরি কৃষকের DBT ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়, কোনো মধ্যস্থতাকারীর হস্তক্ষেপ বা দুর্নীতির ভয় নেই।
- নির্দিষ্ট কিস্তি: বছরে ৬,০০০ টাকা তিনটি সমান কিস্তিতে (প্রতি ৪ মাসে ২,০০০ টাকা) প্রদান করা হয়, যা চাষের খরচে সাহায্য করে।
- বীজ ও সার ক্রয়ে সুবিধা: কিস্তির অর্থ কৃষকরা উন্নত মানের বীজ, সার ও চাষের আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কিনতে ব্যবহার করতে পারেন।
- ক্ষুদ্র কৃষকদের নিরাপত্তা: যোজনাটি বিশেষভাবে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণ বোঝা কমাতে এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ।
পিএম কিষান রেজিস্ট্রেশনে কড়া নজরদারি
পিএম কিষান প্রকল্পে নতুন করে নাম রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে জমির মালিকানা শর্তে। এখন আর শুধু নিজের নামে জমি থাকা মানেই আপনি এই যোজনার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে যারা জমির মালিক হয়েছেন, তাদের জন্য বিশেষ কড়াকড়ি রয়েছে।
- যদি জমিটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া হয়ে থাকে—যেমন বাবা, মা বা দাদুর মৃত্যুর পর আপনার নামে রেকর্ড হয়—তবেই আপনি যোগ্য।
- কিন্তু ২০১৯ সালের পর টাকা দিয়ে জমি কিনলে, আপনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
সুতরাং আবেদন ফর্ম পূরণের সময় জমি পাওয়ার কারণ সঠিকভাবে উল্লেখ করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে আপনার আবেদন বাতিল না হয়।
কিষাণ যোজনায় আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তালিকা
PM Kisan Registration বা অনলাইনে আবেদন শুরু করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতে প্রস্তুত রাখা খুবই প্রয়োজন।
- আধার কার্ড: আবেদনকারীর নিজস্ব আধার কার্ড এবং বিবাহিত হলে স্বামী বা স্ত্রীর আধার কার্ডের তথ্য।
- জমির সঠিক রেকর্ড: জমির পর্চা, খতিয়ান এবং দাগ নম্বর, যাতে আবেদন ফর্মে সঠিক তথ্য দেওয়া যায়।
- মোবাইল নম্বর: একটি সচল মোবাইল নম্বর যা আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, OTP বা ভেরিফিকেশনের জন্য।
- পরিবারের তথ্য: ডিজিটাল রেশন কার্ডের নম্বর সঠিকভাবে ফর্মে বসাতে হবে।
- ডকুমেন্ট স্ক্যান: সমস্ত নথি PDF আকারে স্ক্যান করে রাখা, যাতে আবেদন করার সময় সহজে আপলোড করা যায়।
কিষান সম্মান নিধি যোজনা আবেদন online
পিএম কিষানের অফিশিয়াল পোর্টালে কৃষকরা এখন খুব সহজেই নিজেরাই রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। প্রক্রিয়াটি হলো:
- ওয়েবসাইটের ‘New Farmer Registration’ অপশনে যান এবং আধার নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে OTP জেনারেট করুন।
- OTP ভেরিফাই হলে আধার কার্ড থেকে আপনার নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফর্মে চলে আসবে।
- এরপর জাতিগত ক্যাটাগরি (SC/ST/General) এবং রেশন কার্ডের বিস্তারিত তথ্য ফর্মে দিন।
- পরবর্তী ধাপে জমির অবস্থান অনুযায়ী জেলা, ব্লক ও গ্রামের নাম নির্বাচন করে খতিয়ান ও দাগ নম্বর এন্ট্রি করুন।
- সবশেষে জমির পর্চা বা রেকর্ডের PDF ফাইল আপলোড করে আবেদনটি সেভ ও সাবমিট করুন।
আবেদন করার পর পরবর্তী পদক্ষেপ ও ভেরিফিকেশন
অনেকে ভাবেন, শুধু অনলাইনে ফর্ম জমা দিলেই টাকা আসে, কিন্তু তা তেমন নয়। PM Kisan Registration বা অনলাইনে আবেদন করার পর আপনাকে নিয়মিত ‘Status of Self Registered Farmer’ লিঙ্কে গিয়ে নিজের আবেদনের অবস্থা পরীক্ষা করতে হবে। এরপর আবেদনপত্রের প্রিন্ট আউট নিয়ে আধার কার্ড এবং জমির পর্চার জেরক্স সঙ্গে নিয়ে আপনার ব্লকের স্থানীয় কৃষি অফিস (ADA Office)-এ জমা দিতে হবে। অফিসের আধিকারিকরা আপনার দেওয়া তথ্য সরেজমিনে যাচাই করার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠাবেন, আর জেলা বা রাজ্য স্তর থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই আপনার নাম পিএম কিষানের বেনিফিশিয়ারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
নতুন নিয়মে টাকা পাওয়ার পদ্ধতি
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার টাকা প্রদানের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য। এখন আর ফর্মে আলাদা করে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর বা আইএফএসসি কোড (IFSC Code) দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কেন্দ্রীয় সরকার এখন সরাসরি আধার বেসড পেমেন্ট বা ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) প্রক্রিয়ায় টাকা পাঠিয়ে থাকে। এর মানে হলো, আপনার আধার কার্ডের সঙ্গে যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি যুক্ত আছে, টাকা সরাসরি সেই অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তাই কৃষকদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আধার লিঙ্কের পাশাপাশি ডিবিটি (DBT) অপশনটি সক্রিয় রয়েছে কিনা। এই ব্যবস্থার ফলে মাঝপথে টাকা চুরির কোনো ভয় থাকে না এবং প্রকৃত কৃষকের হাতেই অর্থ পৌঁছায়।
পরিশেষে বলা যায়, কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগ কৃষকদের আর্থিক সহায়তায় এক বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। সঠিক সময়ে এবং সঠিক তথ্য দিয়ে PM Kisan Registration বা আবেদন করলে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনায় প্রতি বছর তিনটি কিস্তিতে ২,০০০ টাকা করে মোট ৬,০০০ টাকা পাওয়া সম্ভব। ২০২৬ সালের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার নিয়মগুলো ঠিকমতো অনুসরণ করলে সাধারণ কৃষকরা কোনো দালালের সাহায্য ছাড়াই সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। গ্রামের সাধারণ কৃষকদের ডিজিটাল মাধ্যম সম্পর্কে সচেতন করতে এই অনলাইন পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মনে রাখতে হবে, সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য সঠিক নথি এবং স্বচ্ছ তথ্য দেওয়া একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। এই সামান্য আর্থিক সহায়তাই অনেক ক্ষুদ্র চাষির জন্য চাষাবাদের কাজে বড় অবলম্বন হয়ে উঠতে পারে।









