২০২৬ সালের সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে একপ্রকার স্পষ্টভাবেই ধরা পড়ল ভারতের সামরিক শক্তির আধুনিক চেহারা (Republic Day Parade)। তিন বাহিনী—স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার মধ্যে সমন্বয় কতটা মজবুত ও কার্যকর, তারই শক্ত বার্তা মিলল এই কুচকাওয়াজে। শুরুতেই নৌবাহিনীর ব্যান্ড ও ট্যাবলোয় তুলে ধরা হয় আধুনিক যুদ্ধপ্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, যা দর্শকদের নজর কাড়ে। পাশাপাশি ট্যাবলোতে জায়গা পায় ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিযান, যা ভারতের কৌশলগত দক্ষতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে আরও একবার সামনে এনে দেয়।
এ ছাড়াও সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে বিশেষ ভাবে নজর কাড়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি ও আধিপত্যের প্রদর্শন। ট্যাবলোতে উত্তর আরব সাগরে ভারতের দাপটের প্রতীক হিসেবে উঠে আসে আইএনএস বিক্রান্তের মতো আধুনিক এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার, যা দেশের সামুদ্রিক সুরক্ষার শক্ত ভিতকে স্পষ্ট করে। একই সঙ্গে আকাশে শক্তির ঝলক দেখায় ভারতীয় বায়ুসেনা—কর্তব্যপথের উপর দিয়ে দুরন্ত ফ্লাইপাস্ট করে রাফাল, সুখোই ৩০ এমকেআই ও মিগ ২৯-এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। সব মিলিয়ে স্থল, জল ও আকাশ—তিন ক্ষেত্রেই ভারতের সামরিক সক্ষমতার এক আত্মবিশ্বাসী বার্তা পৌঁছে দেয় এবারের কুচকাওয়াজ।
এদিনের কুচকাওয়াজে বিশেষ সম্মান পায় ভারতের প্রাক্তন সেনাদের ট্যাবলো, যেখানে তাঁদের ত্যাগ ও অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। পাশাপাশি তিন বাহিনীর যৌথ ট্যাবলোতে সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর একসঙ্গে কাজ করার শক্তিশালী বার্তাও তুলে ধরা হয়। আর সবশেষে চমক হিসেবে নজর কাড়ে ডিআরডিওর তৈরি লং রেঞ্জ অ্যান্টি-শিপ মিসাইল—একটি অত্যাধুনিক হাইপারসনিক অস্ত্র, যা প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার দূরের শত্রু জাহাজেও নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। জানা গেছে, এই মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ ইতিমধ্যেই সফল হয়েছে, এখন শুধু অপেক্ষা ভারতীয় নৌবাহিনীতে এর অন্তর্ভুক্তির।







