এসআইআর বিতর্কে দিনের পর দিন জল্পনা আরও তীব্র হচ্ছে, আর এবার সেই বিতর্কে সরাসরি জড়িয়ে পড়লেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখ শশী পাঁজা। রবিবার দুপুরে গিরিশ পার্কের শুনানি কেন্দ্রে হাজিরা দিতে গিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন। হাতে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি থাকা সত্ত্বেও, শুনানি শেষে বাইরে বেরিয়ে মন্ত্রী জানান, পুরো প্রক্রিয়ার নামে তাঁকে অযথা হেনস্থা করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
২০০২-এর তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও চাওয়া হয়েছে নথি SIR
এদিন ক্ষোভ উগরে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেই আমার নাম রয়েছে। তবুও বলা হচ্ছে নাম নেই, তাই নথি দেখাতে হবে। সব নথি দেওয়ার পর আবার পাসপোর্ট চাইছে। আমি পাসপোর্ট দেখাব না—এটাই আমার প্রতিবাদ।” তাঁর দাবি, এত বছর ধরে ভোট দেওয়া ও ভোটে লড়াই করা একজন জনপ্রতিনিধিকে এভাবে বারবার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন শশী পাঁজা। তিনি বলেন, “দেখি কী করে! তিনবারের মন্ত্রী, দীর্ঘদিনের বিধায়কের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয় কিনা। আমি এত বছর ধরে ভোট দিয়েছি, ভোটে লড়াই করেছি, অথচ এখন বলা হচ্ছে নথি দেখাতে হবে—এটা শুধু হয়রানি ছাড়া আর কিছু নয়।” মন্ত্রীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ইচ্ছেমতো কাজ করছে, যার পেছনে কোনও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যাই নেই।
শশী পাঁজা আরও জানান, শুনানির নোটিশ পাওয়ার পর তাঁকে হাজিরার জন্য অত্যন্ত কম সময় দেওয়া হয়েছিল—রবিবার দুপুর দুটোর মধ্যেই হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল। তাঁর দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল এবং এনুমারেশন ফর্মেও সমস্ত তথ্য ঠিকঠাকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। সমস্যাটা কোনও তথ্যগত গরমিলের নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের অনলাইন অ্যাপের ত্রুটির কারণেই তাঁর নাম দেখাচ্ছে না। অথচ সেই ভুলের জন্য নিয়ম মেনে শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার পরও অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা হচ্ছে এবং একের পর এক নথি চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন মন্ত্রী শশী পাঁজা। তিনি বলেন, “যে ১১টি নথি কমিশন গ্রহণ করছে, সেগুলি প্রত্যেক নাগরিকের কাছ থেকে বাস্তবে দেওয়া অসম্ভব। আমার পাসপোর্ট রয়েছে। কিন্তু অনেক সাধারণ মানুষের কাছে তা নেই। আমি পাসপোর্ট দেখাব না। এটা আমার প্রতিবাদ।”







