আবহাওয়া খেলাধূলা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য টাকাপয়সা প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ারবাজার শিল্প অন্যান্য

SIR Rejected List 2026: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ হওয়ার কারণ

SIR Rejected List

JKNews24 Disk: সামনেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন, আর তার আগেই নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার মতো খবর মিলছে। বর্তমানে SIR (যাচাইকরণ) প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে, কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার নাম বাদ পড়ছে বা ‘রিজেক্ট’ হচ্ছে (SIR Rejected List)। এর কারণ হলো কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত গাইডলাইন এবং ১১টি নির্দিষ্ট নথিপত্র না মানলে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের অজান্তেই কিছু ভুল হচ্ছে, যার খেসারত ভোটের সময় দিতে হতে পারে।

যাঁরা নতুন আবেদন করেছেন বা যাদের নাম যাচাইকরণের স্তরে রয়েছে, তাঁদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন প্রায় ১৬টি এমন ক্ষেত্র বা ‘কমন অবজারভেশন’ চিহ্নিত করেছে, যেখানে সামান্য ভুলেই আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

SIR Rejected List নথিপত্র বা ডকুমেন্টস সংক্রান্ত কড়াকড়ি

ভোটার তালিকায় নাম তোলার বা সংশোধনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সঠিক নথির অভাব। নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, শুধুমাত্র আধার কার্ড জমা দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না, তাই নির্ধারিত সকল নথি যথাযথভাবে জমা দেওয়া আবশ্যক।

ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে কোন নথি গ্রহণযোগ্য এবং কোনটা নয় সেটা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ভাবেন শুধুমাত্র আধার কার্ড থাকলেই কাজ শেষ, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এটি একাই যথেষ্ট নয়। ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আধার কার্ডের সাথে ১১টি নির্ধারিত নথির মধ্যে যেকোনো একটি সাপোর্টিং ডকুমেন্ট থাকা আবশ্যক। এমনকি আধার এবং ফ্যামিলি রেজিস্টার বা SECC ডেটা দিলেও আবেদন বাতিল হবে। অনেকে প্যান কার্ড বা রেশন কার্ড জমা দিচ্ছেন, কিন্তু এগুলি কমিশনের স্বীকৃত নথির তালিকায় নেই, তাই এই ধরনের ডকুমেন্ট জমা দিলে আবেদন সরাসরি নাকচ হয়ে যাবে। এছাড়া অপ্রাসঙ্গিক কাগজ, যেমন জমির দলিল, পঞ্চায়েত প্রধানের শংসাপত্র, নাম পরিবর্তনের এফিডেভিট বা প্রাইভেট স্কুলের সার্টিফিকেটও সরাসরি ‘রিজেক্ট’ তালিকায় চলে যাচ্ছে।

১৯৮৭ থেকে ২০২৪: জন্মতারিখ ও সম্পর্কের প্রমাণ (Linkage)

সবচেয়ে বেশি জটিলতা তৈরি হচ্ছে তাঁদের ক্ষেত্রে, যাদের জন্ম ১লা জুলাই ১৯৮৭ থেকে ১লা জানুয়ারি ২০২৪ এর মধ্যে। এই বয়সের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত কড়া নিয়ম প্রয়োগ করছে।

যদি আপনি বার্থ সার্টিফিকেট, আধার এবং মাধ্যমিকের এডমিট কার্ড জমা দেন, কিন্তু বাবা-মায়ের সঙ্গে আপনার সম্পর্কের প্রমাণ (Linkage) বা বাবা-মায়ের জন্ম সংক্রান্ত কোনো নথি দিতে না পারেন, তাহলে আপনার আবেদন ‘সন্দেহজনক’ (Doubtful) হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং নাম বাতিল হতে পারে। নিজের সব নথি ঠিক থাকলেও বাবা-মায়ের সঠিক ডকুমেন্ট বা সম্পর্কের প্রমাণ না থাকলে ভোটার তালিকায় নাম তোলা প্রায় অসম্ভব।

২০০২ সালের তথ্যের সাথে অমিল ও অন্যান্য ত্রুটি

ভোটার তালিকায় নাম যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পুরনো বা লিগ্যাসি ডেটার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার তথ্যের সাথে বর্তমান আবেদনের তথ্যের মিল থাকা বাধ্যতামূলক।

নামের গরমিলের ক্ষেত্রে, যদি আপনি বাবা-মায়ের ২০০২ সালের তথ্য দিয়েছেন, কিন্তু নামের বানান বর্তমান নথির সাথে পুরোপুরি মেলে না, তাহলে নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। এছাড়া, অনেকেই বাবা-মায়ের পরিবর্তে দাদু-দিদার তথ্যের সঙ্গে লিংক করান, কিন্তু সেখানে নামের সম্পূর্ণ অমিল থাকলে এবং শুধু আধার ডকুমেন্ট জমা থাকলে আবেদন বাতিলযোগ্য হয়ে যায়।

প্রযুক্তিগত ভুল ও বিএলও-দের ভূমিকা

অনেক সময় ভোটারের নিজের দোষ না থাকলেও টেকনিক্যাল কারণে বা BLO-এর ভুলের কারণে নাম বাতিল হয়ে যেতে পারে।

যেমন, ভুল আপলোডের ঘটনা: সিস্টেমে হয়তো ‘বার্থ সার্টিফিকেট’ অপশন সিলেক্ট করা হয়েছে, কিন্তু আপলোড করা হয়েছে আধার কার্ডের ছবি। এই ধরনের ক্যাটাগরি মিসম্যাচ বা ভুল পেজ আপলোড করলে আবেদন গ্রাহ্য হবে না।

আরও, স্বাক্ষর ও ছবি সংক্রান্ত ত্রুটি: এনুমারেটর ফর্মে আপনার সই এবং শুনানির রিসিভ কপিতে সই মেলানো না থাকলে, অথবা একই ছবি একাধিক প্রোফাইলে ব্যবহার করা হলে নির্বাচন কমিশন তা জালিয়াতি বা ভুল হিসেবে গণ্য করে আবেদন বাতিল করে দিতে পারে।

এছাড়া, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইস্যু করা ওবিসি (OBC) সার্টিফিকেটধারীদের নাম আপাতত অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না বা রিজেক্ট করা হচ্ছে, যা চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে নিজের স্ট্যাটাস যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।