২৬,০০০ শিক্ষকের চাকরি ও বেতন ফেরত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় আপডেট

- Advertisement -spot_imgspot_img
- Advertisement -spot_imgspot_img

JKNews24 Desk: রাজ্যের শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে ২৬,০০০ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীর ভবিষ্যৎ। সুপ্রিম কোর্টে আজ এই বিশাল সংখ্যক নিয়োগ বাতিল ও অযোগ্যদের বেতন ফেরত সংক্রান্ত কনটেম্পট মামলা-এর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূর্ববর্তী নির্দেশিকা মেনে রাজ্য সরকার বা স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এখনও কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬—আজকের শুনানিতে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং আগামী দিনের জন্য নির্ধারিত হয়েছে নতুন সময়সীমা।

শুনানির প্রেক্ষাপট ও মূল অভিযোগ

গত এপ্রিল ২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে অযোগ্য বা ‘টেইন্টেড’ শিক্ষকদের চাকরি বাতিলের পাশাপাশি তাঁদের প্রাপ্ত বেতন সুদসহ ফেরত দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেই নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার ও স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) তা কার্যকর করতে দীর্ঘদিন ধরে গড়িমসি করেছে। এই নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগেই কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করা হয়। মামলাকারীদের বক্তব্য, সরকারি কোষাগারের অর্থ এভাবে অপচয় হতে দেওয়া যায় না এবং আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত ছিল।

আদালতে আজকের সওয়াল-জবাব

আজ সুপ্রিম কোর্টের ১২ নম্বর কোর্টে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। শুনানির শুরুতেই মামলাকারীদের পক্ষের জুনিয়র আইনজীবী আদালতের কাছে সময় চান। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলাকারীদের সিনিয়র আইনজীবী মাত্র গতকালই মামলার সমস্ত এফিডেভিট ও প্রয়োজনীয় নথি হাতে পেয়েছেন। সেই কারণে আইনি দিকগুলি খুঁটিয়ে দেখে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য তিন সপ্তাহ সময় প্রার্থনা করা হয়। যদিও এসএসসির আইনজীবীরা শুনানির জন্য প্রস্তুত ছিলেন, তবুও ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং নথি আদান-প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার প্রয়োজন বিবেচনা করে বিচারপতিরা সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন।

এক নজরে মামলার তথ্যাদি

মামলার বিষয়২৬,০০০ নিয়োগ বাতিল ও বেতন ফেরত (কনটেম্পট)
বিচারপতিগণবিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রন
পিটিশনারলক্ষ্মী টুঙ্গা, সেতাব উদ্দিন, সোমা মন্ডল এবং অলোক কুমার খান
বিপক্ষবিনোদ কুমার (ও অন্যান্য)

রাজ্যের ভূমিকা ও নির্দেশিকা

এই মামলার শুনানির আগেই রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ রাজ্য শিক্ষা দপ্তর জেলা শাসকদের উদ্দেশে একটি নির্দেশিকা জারি করে, যেখানে অযোগ্য শিক্ষকদের কাছ থেকে বেতন ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে গত এক মাসে সেই নির্দেশিকার কোনও কার্যকর প্রতিফলন দেখা যায়নি। ফলে আদালতের নির্দেশ কার্যকর না হওয়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী শুনানিতে রাজ্য সরকারকে এফিডেভিট জমা দিয়ে ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করার সন্তোষজনক কারণ দেখাতে না পারলে রাজ্য সরকারকে বড়সড় আইনি চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।

সব খবর মোবাইলে পেতে Whatsapp গ্রুপে জয়েন্ট করন -

WhatsApp Group Join Now

পরবর্তী পদক্ষেপ

বিচারপতিদের বেঞ্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন ২৫শে মার্চ, ২০২৬। এর মধ্যবর্তী সময়ে উভয় পক্ষকে তাদের যাবতীয় এফিডেভিট এবং কাউন্টার এফিডেভিট আদালতে জমা করতে হবে। ফলে, আগামী মার্চ মাসেই নির্ধারিত হতে পারে এই ২৬,০০০ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীর চুড়ান্ত ভাগ্য। ততদিন পর্যন্ত আইনি লড়াই এবং অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে সংশ্লিষ্ট সকলকে।

- Advertisement -spot_imgspot_img
Rohan Khan
Rohan Khan
বিগত ৩ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেইসঙ্গে গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে JKNews24 এর সঙ্গে কাজ করছি। বিশেষ করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা, এবং সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে চর্চা ও বিশ্লেষণ করতে ভালোবাসি।
Latest news
- Advertisement -spot_img
Related news
- Advertisement -spot_img