JKNews24 Desk: খুচরোর সমস্যা যে কতটা ভোগান্তির, তা দৈনন্দিন জীবনে প্রায় সবাই একবার না একবার টের পেয়েছেন। হঠাৎ কিছু কেনার দরকার পড়লে পকেটে বড় নোট ছাড়া কিছু নেই, আর কাছের ATM থেকেও ১০০ বা ৫০০ টাকার নোট ছাড়া কিছু মেলে না—ফলে বিপাকে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। সেই চেনা সমস্যারই সমাধান করতে এবার বড় উদ্যোগ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, নরেন্দ্র মোদি সরকার শিগগিরই দেশে চালু করতে পারে বিশেষ ‘হাইব্রিড ATM’, যেখান থেকে ১০, ২০ এমনকি ৫০ টাকার কয়েন ও নোটও পাওয়া যাবে। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে খুচরো নিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জোর কদমে চলছে আলোচনা
ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট দ্রুত বাড়লেও বাস্তব চিত্রটা এখনও পুরোপুরি বদলায়নি। বাজারে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গেলে আজও নগদ লেনদেনই বেশি ভরসা। অনেক দোকানে এখনও UPI নেওয়া হয় না, আবার দেশের একটা বড় অংশের মানুষ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহার করতেই স্বচ্ছন্দ নন। নাম শুনেছেন ঠিকই, কিন্তু কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটা জানেন না অনেকেই। তাই ১০, ২০ বা ৫০ টাকার নোটের চাহিদা আজও আকাশছোঁয়া, অথচ এই নোটগুলোই এখন বাজারে সবচেয়ে দুর্লভ।
অবশ্যই পড়ুন: ভারতীয় ডাক বিভাগে নিয়োগ, প্রায় ৩০ হাজার শূন্যপদ
এই খুচরোর সমস্যায় বারবার নাকাল হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। সেই ভোগান্তি কমাতেই এবার নতুন ভাবনাচিন্তা করছে কেন্দ্র। বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে, ১০, ২০ এমনকি ৫০ টাকার কয়েন ও নোট তোলার জন্য বিশেষ হাইব্রিড ATM চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এই ATM থেকে শুধু খুচরো তোলাই নয়, বড় নোট ভাঙিয়ে প্রয়োজনীয় টাকা নেওয়ার সুবিধাও থাকতে পারে। সূত্রের খবর, বাজার, হাসপাতাল, রেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড বা বাণিজ্যিক এলাকার মতো ব্যস্ত জায়গাতেই প্রথমে এই ATM বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এক সরকারি আধিকারিকের দাবি, কলকাতার মতো বড় শহরে যেখানে নগদ লেনদেনের চাপ বেশি, সেখানে বেছে বেছে কয়েকটি জায়গায় এই হাইব্রিড ATM বসানোর কথা ভাবা হচ্ছে। তবে সরকার একদিকে যেমন ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে, তাতে খুচরোর জন্য আলাদা ATM ব্যবস্থা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবুও এই উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নিলে, দৈনন্দিন জীবনে খুচরোর সমস্যায় ভোগা বিপুল সংখ্যক মানুষেরই যে উপকার হবে, তা বলাই বাহুল্য।
উল্লেখ্য, ছোট নোট বা খুচরোর চাহিদা মেটাতে যে বিশেষ ATM এর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তার বাস্তবতা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই মুম্বই শহরে একটি পাইলট প্রজেক্ট চালু করেছে সরকার। এই প্রকল্পের অধীনে মুম্বইয়ে বিশেষ ATM চালু করার পর তা কতটা কার্যকরী হচ্ছে এবং এই ATM এর প্রতি সাধারণ মানুষের ঝোঁক কতটা, আদৌ মানুষের চাহিদা আছে কিনা সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।








