শীতপ্রেমীদের কাছে শীতকাল যতটা আনন্দের, ততটাই আবার ভোগান্তিরও। দুপুরের মিঠে রোদ আর পিকনিকের মজা যতই মন ভালো করুক, শুষ্ক আবহাওয়া এসে সব মেজাজটাই নষ্ট করে দেয়। এই সময়ে ত্বক ও চুলের সমস্যার পাশাপাশি যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি ভোগায়, তা হল ঠোঁট ফাটা (Winter Lip Care)। সারা বছর গোলাপী ও নরম থাকা ঠোঁট হঠাৎই শীতের হাওয়ায় রুক্ষ ও রক্তাক্ত হয়ে যায়। আর এই কারণেই অনেকেই পড়ে যান বড় সমস্যায়।
শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে বাঁচার উপায়
শীতকালে ফাটা ঠোঁটের সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য অনেকেই ঠোঁটে লিপবাম ও অন্যান্য ক্রিম লাগান কিন্তু তারপরও ঠোঁটের সমস্যা দূর হয় না। চামড়া উঠে এসে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। তবে চিন্তার কিছু নেই, আমাদের আজকের প্রতিবেদন ফাটা ঠোঁটের জন্য কিছু কার্যকরী ঘরোয়া টোটকা নিয়ে এসেছে, যা ব্যবহার করা মাত্রই নিমেষে আপনার সুন্দর ঠোঁটের রুক্ষভাব কেটে গিয়ে গোলাপী এবং মোলায়েম হবে। চলুন সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
মধুর ম্যাজিক (Winter Lip Care)
শীতকালে ঠোঁট বেশি শুষ্ক হয়ে গেলে মধু সত্যিই দুর্দান্ত কাজ করে। কারণ মধু শুধু একটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজারই নয়, বরং ত্বকের ক্ষত সারাতেও সাহায্য করে। ঠোঁটে মধু লাগালে শুষ্কতা কমে, নরম ভাব ফিরে আসে এবং ফাটার ব্যথাও অনেকটাই কমে যায়। তাই ঠোঁটে সামান্য মধু লাগিয়ে ৫ মিনিট আলতো করে ম্যাসাজ করুন, তারপর গরম জলে পরিষ্কার করে নিন। দিনে দুই থেকে তিনবার এইভাবে মধু ব্যবহার করলে ফাটা ঠোঁট খুব দ্রুত ঠিক হয়ে যায় এবং ঠোঁট থাকে নরম, আর্দ্র ও সুস্থ।
অলিভ অয়েলের ব্যবহার
অলিভ নিঃসৃত তেল একটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। এটি শীতে ত্বক, চুল ও ঠোঁট নরম রাখে। অলিভ তেলে ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা ত্বককে পুষ্ট করে এবং নিরাময় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। নারকেল তেল হালকা গরম করে ঠোঁটে লাগালে ঠোঁটের শুষ্কতা চলে যাবে। এবং ঠোঁট নরম তুলতুলে থাকবে।
দুধের সরের ব্যবহার
রাতে ঘুমোনোর আগে সামান্য ঘি-এর সঙ্গে অল্প দুধের সর মিশিয়ে ঠোঁটে লাগালে সত্যিই ম্যাজিকের মতো কাজ করে। ঘি স্বাভাবিকভাবেই ঠোঁটকে দীর্ঘ সময় নরম ও ময়েশ্চারাইজড রাখে, আর দুধের সর ঠোঁটের ভেতরের জমে থাকা ময়লা ও মৃত কোষ দূর করে ত্বককে করে তোলে উজ্জ্বল। তাই এই মিশ্রণ সারা রাত ঠোঁটে রেখে সকালে ধুয়ে ফেললে শুধু ফাটা ঠোঁটই সারবে না, ঠোঁটের কালচেও ধীরে ধীরে কমে যাবে।
অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার
ঘৃতকুমারী পাতার রস বা অ্যালোভেরা জেল ত্বক আর ঠোঁটের যত্নে দারুণ কার্যকর। এটি ঠোঁটে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং শুষ্কতা কমায়। অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে নারকেল তেল মিশিয়ে ঠোঁটে লাগালে কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি নরম ও আরামদায়ক অনুভূতি পাওয়া যায়। এই মিশ্রণটি ঠোঁটকে মোলায়েম করার পাশাপাশি ফাটাধরা ত্বক দ্রুত সারিয়ে তোলে। নিয়মিত ব্যবহার করলে শীতে ঠোঁটের শুষ্কতা অনেকটাই কমে যাবে।
মাখনের ব্যবহার
পাহাড়ি বাড়িতে ব্যবহৃত খাঁটি মাখন শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, ফাটা ঠোঁট সারাতেও দুর্দান্ত কাজ করে। এতে থাকা প্রাকৃতিক ফ্যাট ঠোঁটে দ্রুত আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে। বিশেষ করে রাতে ঘুমোনোর আগে ঠোঁটে মাখন লাগালে সারা রাত ঠোঁট নরম থাকে, সকালে উঠে ফাটা ভাব অনেকটাই কমে যায়। নিয়মিত ব্যবহার করলে ঠোঁটের রুক্ষতাও ধীরে ধীরে দূর হবে।
🔴 প্রতিনিয়ত সর্বশেষ খবর পেতে এখনই Google-এ সার্চ করুন “JKNEWS24 Bangla”। পাশাপাশি, আরও দ্রুত আপডেট পেতে এখনই ফলো করুন JKNEWS24 WhatsApp Channel — প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক ক্লিকে পৌঁছে যাবে আপনার মোবাইলে!









