JKNews24 Desk: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় অনিশ্চয়তা। মুস্তাফিজুর রহমান ইস্যুর পর এবার নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অনীহা প্রকাশ করছে বাংলাদেশ। এই বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার এবং পুরো পরিস্থিতি আইসিসিকে জানাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী আসিফ নজরুল, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন। শনিবার তড়িঘড়ি বৈঠকে বসে বিসিবি এবং সূত্রের খবর, সরকারের নির্দেশ মেনে নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের আবেদন করতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। পাশাপাশি, বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার না করার নির্দেশিকাও জারি হতে পারে বলে জোর আলোচনা চলছে।
ভারতে খেলতে আসতেই হবে বাংলাদেশি প্লেয়ারদের?
শনিবার মুস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়ার খবর সামনে আসতেই ওপার বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার সকাল থেকে জোর আলোচনা শুরু হয় যে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের মতো শক্তিশালী ও প্রভাবশালী সংস্থার বিরুদ্ধে কার্যত কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের। সেই বাস্তবতা মেনেই এবার ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে দল পাঠাতে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাকে সামনে এনে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে বিসিবি। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও সাফ জানিয়ে দেন, চুক্তিবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও যদি বাংলাদেশের এক ক্রিকেটার ভারতে লিগ খেলতে না পারেন, তাহলে গোটা দল কীভাবে সেখানে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে নিজেদের নিরাপদ মনে করবে—সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়।
ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্যের পর শোনা গিয়েছিল, ভারত থেকে বিশ্বকাপের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে একাধিক সূত্রের দাবি, আইসিসির কাছে ভারতে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেও ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করবে না বিসিবি। আসলে বোর্ড বুঝে গেছে, এত অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের ভেন্যু বদল কার্যত অসম্ভব। পাশাপাশি আইসিসির শীর্ষস্তরে ভারতের প্রভাবও যে বড় ফ্যাক্টর, সেটাও ভালোভাবেই জানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড—ফলে ইচ্ছে থাকলেও বাস্তবে তাদের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই বলেই মনে করছে ক্রিকেটমহল।
আইসিসির নিয়ম কী বলছে?
নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনও দেশের সরকার মনে করে যে অন্য দেশে গিয়ে খেলতে তাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে, তাহলে সেই সরকারকে প্রথমে বিষয়টি লিখিতভাবে নিজেদের ক্রিকেট বোর্ডকে জানাতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট বোর্ড আইসিসিকে জানায় যে আয়োজক দেশের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের আপত্তি রয়েছে এবং সেই কারণে খেলোয়াড়দের বিদেশে যাওয়ার সরকারি অনুমতি মিলবে না। এই আবেদন পাওয়ার পর আইসিসি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়—প্রয়োজনে টুর্নামেন্টে ওই দেশের ম্যাচগুলির ভেন্যু পরিবর্তনও করা হতে পারে, যদিও শেষ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি আইসিসির হাতেই থাকে।









