JKNews24 Desk: স্কুল বা কলেজের গণ্ডি পার করে এক সময় সংবাদপত্রের ‘চাকরি চাই’ কলামে বিজ্ঞাপন খোঁজাখুঁজি করত যুব সম্প্রদায় (Tips for young job seekers)। সেই সময় পিছিয়ে গিয়েছে অনেকখানি। এখন অনলাইনেই খুঁজে নেওয়া যায় চাকরি। যোগ্যতা অনুযায়ী করে ফেলা যায় পছন্দসই সংস্থায় আবেদন। আবেদনের পদ্ধতি যেমন বদলেছে, তেমনই বদলেছে নিয়োগের শর্তও, প্রয়োজনীয় যোগ্যতার মাপকাঠি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিয়োগকর্তারা প্রার্থীদের কর্ম দক্ষতার বিষয়ে খোঁজ নেন। কিন্তু কেন?
বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কথায়, “একজন নবিশ কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজের উপযুক্ত করে তুলতে যেমন অনেকটা সময় লাগে, তেমনই এতে সংস্থার বাড়তি খরচও হয়। তাই ন্যূনতম যোগ্যতা থাকলেও যদি কোনও প্রার্থীর কাছে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় দক্ষতা বা স্কিলসেট থাকে, তাহলে নিয়োগের পরই সে দ্রুত কাজ শুরু করতে পারে। এতে সংস্থার কাজের গতি বাড়ে এবং দু’পক্ষেরই লাভ হয়।”
১। দক্ষতার যথাযথ প্রমাণ (Tips for young job seekers)
শুধু কোডিং জানা থাকলেই চলবে না, ইন্টারভিউ বা পরীক্ষায় তার বাস্তব প্রমাণ দেখাতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হয়। এই ক্ষেত্রে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজেক্ট, নিজের তৈরি পোর্টফোলিও কিংবা ইন্টার্নশিপের শংসাপত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আপনি কী কী বিষয় শিখেছেন, কোথা থেকে শিখেছেন এবং কোন কোন প্রকল্পে সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়েছেন—এই সবকিছুর লিখিত বা ডিজিটাল প্রমাণ থাকলে নিয়োগকর্তার কাছে আপনার দক্ষতা সহজেই বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।
২। জীবনপঞ্জি হওয়া চাই আকর্ষণীয়:
দক্ষতা নির্ভর চাকরির ক্ষেত্রে শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স বা ফোন নম্বর দিয়ে সাজানো সাধারণ জীবনপঞ্জি আর যথেষ্ট নয়। বরং জীবনপঞ্জির শুরুতেই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে আপনি কোন কোন বিষয়ে দক্ষ, আগে কোথাও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে কি না এবং কী ধরনের কাজে আপনি পারদর্শী। কোন কোন বিশেষ টুল, সফটওয়্যার বা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে অভ্যস্ত—সেগুলিও পরিষ্কার করে উল্লেখ করা জরুরি। অপ্রয়োজনীয় বা কাজের সঙ্গে সম্পর্কহীন তথ্য বাদ দিলে জীবনপঞ্জি আরও আকর্ষণীয় ও কার্যকর হয়ে ওঠে।
৩। অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র সম্পর্কে সঠিক তথ্য:
কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, কিন্তু তা ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ কিংবা লাইভ প্রজেক্ট-এর। এ ক্ষেত্রে জীবনপঞ্জিতে তা স্পষ্ট উল্লেখ করা প্রয়োজন। শুধুমাত্র কত বছর কোন ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা লিখে দিলে চলবে না। এতে ভুল বোঝার সম্ভাবনা থাকে প্রবল।
৪। সফ্ট স্কিলের উল্লেখ:
কথা বলতে পারা, দলবদ্ধ ভাবে কাজ করা, জটিল বিষয়ের সহজ সমাধান করে নেওয়ার মত সফ্ট স্কিলের উল্লেখ করা প্রয়োজন। অনলাইনে চাকরির আবেদন জমা দেওয়ার সময় এমন কোনও বিকল্প দেওয়া থাকলে, তাতে নিজের দক্ষতার কথা অবশ্যই জানাতে হবে। সাধারণত প্রকল্প নির্ভর কাজে নিয়োগের সময় এই ধরনের দক্ষতা থাকলে নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
৫। স্নাতকের পর পড়াশোনা চলুক:
ডিগ্রি কোর্সের পড়াশোনার পরও নিজে থেকে শেখার আগ্রহ থাকা প্রয়োজন। এখন অনলাইনে বিভিন্ন ধরনে দক্ষতাবৃদ্ধি মূলক কোর্স করানো হয়। এই সমস্ত বিষয়গুলি শিখে রাখতে পারলে নিয়োগের আবেদনে তা উল্লেখ করা যেতে পারে। এতে নিয়োগকর্তারাও আবেদন খুঁটিয়ে দেখার প্রতি আগ্রহী হবেন।






