আবহাওয়া খেলাধূলা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য টাকাপয়সা প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ারবাজার শিল্প অন্যান্য

“আমাকে বাঁচান”—ফেসবুক পোস্ট দেখে বিজেপি প্রধানকে উদ্ধার করল পুলিশ!

Purba Medinipur

JKNews24 Desk, পূর্ব মেদিনীপুর: পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তীব্র আলোড়ন ছড়িয়েছে (Purba Medinipur) । ফেসবুকে অপহরণের অভিযোগ জানিয়ে লাইভ লোকেশন শেয়ার করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিজেপি পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিলা প্রধান ভবানী মণ্ডলকে উদ্ধার করে খেজুরি থানার পুলিশ। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা ও নানা প্রশ্ন। কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল তুঙ্গে।

কীভাবে সামনে এল বিষয়টি? (Purba Medinipur) 

আসলে খেজুরি ১ ব্লকের কামারদা অঞ্চলের গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ভবানী মণ্ডল হঠাৎই নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন, যেখানে লেখা ছিল, “আমাকে অপহরণ করা হয়েছে, আমাকে বাঁচান।” সেই পোস্টের সঙ্গেই তিনি নিজের লাইভ লোকেশনও শেয়ার করেন। বিষয়টি নজরে আসতেই পুলিশ আর দেরি না করে দ্রুত ওই লোকেশনে পৌঁছে জাহানাবাদ এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে। এই ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় মুহূর্তের মধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

ভবানী মণ্ডলের অভিযোগ, ১৫ জানুয়ারি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের কাজ শেষ করে কাঁথির ভাড়া বাড়িতে ফেরার সময় একটি ভ্যান দিয়ে তাঁর বাইক আটকানো হয়। এরপর জোর করে তাঁকে অপহরণ করে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পঞ্চায়েত থেকে টাকা আয়ের জন্য তাঁর উপর চাপ দেওয়া হয় এবং দাবি না মানলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এই ঘটনায় তাঁর স্বামী সৌমেন মণ্ডল, শ্বশুর কেশব মণ্ডল-সহ পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

ভবানী মণ্ডল আরও জানান, তিনি আসলে গৃহবধূ হিসেবেই থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিবারের চাপে পড়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনে দাঁড়াতে হয়েছিল এবং জয়ী হয়ে প্রধান হন। নির্বাচনের খরচ পঞ্চায়েত থেকে তোলার জন্য চাপ দেওয়া হলে তিনি তাতে রাজি হননি বলেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে তাঁর দাবি। বিষয়টি দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েও কোনও সমাধান পাননি তিনি। সেই কারণেই কাঁথিতে আলাদা ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। সুযোগ পেয়ে স্বামীর মোবাইল থেকেই নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই পোস্ট করেন ভবানী দেবী, আর সেই পোস্টই শেষ পর্যন্ত তাঁর উদ্ধারের পথ খুলে দেয়।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার দে জানিয়েছেন, অভিযুক্তদেরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পাশাপাশি আরও দুই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যাদের তরফ থেকেও কিছু অভিযোগ এসেছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

JANARUL KHAN

বিগত ৩ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেইসঙ্গে গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে JKNews24 এর সঙ্গে কাজ করছি। বিশেষ করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা, এবং সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে চর্চা ও বিশ্লেষণ করতে ভালোবাসি।

Join WhatsApp

Join Now