JKNews24 Desk, কলকাতাঃ ন্যূনতম পেনশনের টাকা কবে বাড়বে—এই প্রশ্নটাই এখন বহু পেনশনভোগীর মুখে মুখে (EPFO Pension)। প্রায় ১১ বছর ধরে ইপিএফও (EPFO) ন্যূনতম পেনশনের অঙ্কে কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় ক্ষোভ জমেছে পেনশনপ্রাপকদের মধ্যে। এই দীর্ঘ সময়ে একাধিকবার আলোচনা, দাবি, এমনকি বিক্ষোভও হয়েছে। তবুও প্রতীক্ষা শেষ হয়নি। তবে এবার কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির দাবি নিয়ে শীঘ্রই বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্র। সেই সম্ভাবনাতেই এখন দিন গুনছেন লক্ষ লক্ষ পেনশনভোগী।
দীর্ঘ ১১ বছর পর বাড়বে পেনশন? (EPFO Pension)
সূত্রের খবর, সরকার কর্মচারী ভবিষ্যনিধি তহবিল সংস্থার (EPFO) কর্মীদের পেনশন বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। সূত্রগুলি ইঙ্গিত দেয় যে বাজেটের সময় বা তার পরেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পেনশন বৃদ্ধির সঠিক পরিমাণ অস্পষ্ট হলেও, আশা করা যাচ্ছে যে দীর্ঘদিনের দাবি মেটাবে সরকার। EPFO-এর অধীনে কর্মচারী পেনশন প্রকল্পের (EPS-95) অধীনে ন্যূনতম পেনশন বর্তমানে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা। এটি ২০১৪ সালে স্থির করা হয়েছিল এবং তারপর থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে।
ট্রেড ইউনিয়নগুলির লাগাতার দাবির চাপেই এবার নড়েচড়ে বসতে পারে ইপিএফও। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় ট্রাস্টি বোর্ড (CBT) ন্যূনতম পেনশন মাসে ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকার মধ্যে করার প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, EPFO-এর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এই সংস্থাটিতে নিয়োগকর্তা, কর্মচারী, রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে রয়েছেন। ফলে সিদ্ধান্ত হলে তা হবে সকল পক্ষের মতামত নিয়েই। এই সম্ভাবনাই এখন বহু পেনশনভোগীর মধ্যে নতুন করে আশা জাগাচ্ছে।
কী দাবি কর্মচারী সংগঠনগুলির?
কর্মচারী সংগঠনগুলির বক্তব্য, গত ১১ বছরে মুদ্রাস্ফীতি যেভাবে বেড়েছে, তাতে অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের দৈনন্দিন খরচের চাপ অনেকটাই বেড়েছে। সেই তুলনায় মাসে মাত্র ১,০০০ টাকা পেনশন এখন আর বাস্তবসম্মত নয় বলেই দাবি তাঁদের। এই কারণেই ৬ জানুয়ারি ভারতীয় মজদুর সংঘের (বিএমএস) একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ন্যূনতম পেনশন বাড়ানোর দাবি তোলে। সংগঠনগুলির মতে, পেনশন অন্তত মাসে ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা হওয়া দরকার। এর মধ্যেই ইপিএফও-সংক্রান্ত পেনশন মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। এখন দেখার, শীর্ষ আদালত কোনও নির্দেশ দেয় কি না, নাকি তার আগেই সরকার এই বহু প্রতীক্ষিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।
বর্তমান নিয়ম কী বলে?
বর্তমান নিয়ম অনুসারে, কর্মচারী এবং নিয়োগকর্তারা প্রত্যেকেই একজন কর্মচারীর বেতনের ১২ শতাংশ অবদান রাখেন। কর্মচারীর ১২ শতাংশ অবদান সরাসরি ইপিএফ অ্যাকাউন্টে যায়। নিয়োগকর্তার অবদান ইপিএফের ৩.৬৭ শতাংশ এবং ইপিএসের ৮.৩৩ শতাংশ। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, EPFO ২৬ লক্ষ কোটি টাকার একটি ফান্ড পরিচালনা করে, যার ৭৬ মিলিয়ন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছেন। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে এটি পরিবর্তিত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আর্থিক স্থিতিশীলতা আনবে।









