JKNews24 Disk: হাড় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে মাথা থেকে পা পর্যন্ত একের পর এক শারীরিক সমস্যার মধ্যেই দিন কাটছে—এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন সঙ্গীতশিল্পী অমাল মালিক। তাঁর কথায়, শারীরিক যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করেই আজও তাঁকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হচ্ছে, আর এই লড়াইয়ে একমাত্র ভরসা মানসিক শক্তি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শরীর যতই ভেঙে পড়ুক, মনকে শক্ত রাখাই তাঁর বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
অমাল আরও জানান, অর্থের অভাবে আজও তাঁর বেশ কিছু অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাঁর চোয়াল ভেঙে গিয়েছিল, যার জন্য অস্ত্রোপচার করে ঠিক করতে হয় এবং এখনও চোয়ালের কাছে ৪৫টি সেলাইয়ের দাগ রয়েছে। হাঁটুর সমস্যা তো রয়েছেই, পাশাপাশি কাঁধের হাড় সরে যাওয়া, বাঁ হাত পুরো ভেঙে যাওয়া, এমনকি নাক ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তবুও প্রতিদিন সকালে উঠে তিনি কাজ করেন—কারণ তাঁর ভাষায়, “শুধুমাত্র মানসিক জোর আছে বলেই আমি আজও কাজ করে যেতে পারছি।”
একসময় নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেও ‘বিগ বস্’ থেকে বেরোনোর পর মানুষের মন জয় করতে পেরেছেন অমাল মালিক। এখন জীবনের একটা স্থির জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি এবং ধীরে ধীরে নিজের সব শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা করাতে চান। গায়ক নিজেই বলছেন, এখন সবকিছু ঠিক করে নিয়ে আবার পুরো মন দিয়ে কাজে ফিরতে চান। হাঁটুর সমস্যার জন্য বর্তমানে ভালো মানের ‘নি ব্রেসেস’ ব্যবহার করেন, যেগুলো পরে অনুষ্ঠান করেন তিনি। একসময় হাঁটু খুব সহজেই মচকে যেত, এমনকি ‘বিগ বস্’-এর মঞ্চেও নাচতে গিয়ে সমস্যা হয়েছিল। অমালের কথায়, আগে টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি, আর এখন সময়ের অভাব—এই দুয়ের মাঝেই জীবনটা কেটেছে।
অমাল আরও জানান, একবার তাঁর মাথার খুলিও ফেটে গিয়েছিল, সেই সময় অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাতে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিতে হয়। তাঁর স্বীকারোক্তি, অস্ত্রোপচার মানেই বিশাল খরচ, আর সেই ভাঙা মাথা নিয়েই দীর্ঘদিন কাজ করে গিয়েছেন তিনি। দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার সময় মুখের হাড় ভেঙে যাওয়ার স্মৃতিও আজও তাজা—মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা চোখ খুলে রাখতে পারতেন, তাও বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে, সেই অবস্থাতেই পরীক্ষা দিয়েছিলেন। অমালের কথায়, এইভাবেই কেটেছে জীবনের ৩৫টা বছর, কারণ তাঁর লড়াইটা শুরু হয়েছিল মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকেই।









