JKNews24 Disk: নির্বাচনের আবহে যখন রাজ্য রাজনীতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের একের পর এক মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগেই ঝাড়খণ্ডে বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে, যেখানে রাজনীতির রং লেগে গিয়ে পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে সাংবাদিকদেরও নিগ্রহের শিকার হতে হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের সামনে এল আর এক মর্মান্তিক ঘটনা—এবার মুম্বইয়ে রেললাইনের ধারে উদ্ধার হয়েছে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রক্তাক্ত দেহ।
মুম্বই থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ শ্রমিক
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে মুম্বইয়ের রেললাইনের ধারে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থানার বালতি মাঝের পাড়ার বাসিন্দা, ২৪ বছরের আলফাজ মণ্ডলের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবার জানিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে আলফাজ মুম্বই মেট্রোর একটি প্রকল্পে ঠিকাদারের অধীনে কাজ করছিলেন এবং থাকতেন সোমবর্গ এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে। এই সপ্তাহেই তাঁর বাড়ি ফেরার কথা ছিল, সেই কারণেই সোমবার রাতে কাজ শেষ করে ট্রেনে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু ওইদিনে আলফাজ হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায়।
ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর গ্রামে পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। আলফাজের অকাল মৃত্যুকে ঘিরে এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোক ও উত্তেজনার আবহ। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা আদৌ কতটা সক্রিয়। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে সরব হন গ্রামবাসীরা।
আলফাজের নিখোঁজের মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে টহল চলাকালীন মুম্বই পুলিশ রেললাইনের ধার থেকে একটি ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে। পরে তদন্তে নিশ্চিত করা হয়, ওই দেহটি আলফাজেরই। মঙ্গলবার সকালেই তাঁর মৃত্যুসংবাদ পরিবারকে জানানো হয়। আজ পরিযায়ী শ্রমিকের নিথর দেহ গ্রামে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা, আর ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরাও। পরিবারের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়—এটি পরিকল্পিত খুন। যদিও মুম্বই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ঘটনাটিকে ‘ট্রেন দুর্ঘটনা’ বলেই উল্লেখ করা হয়েছে।
আলফাজের এই আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে যে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট উঠে এসেছে তা একদমই মানতে চাইছে না পরিবার এবং স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, একজন সুস্থ যুবক কাজ থেকে ফেরার পথে এভাবে দুর্ঘটনায় কীভাবেই বা প্রাণ হারাবেন? তাই এটি দুর্ঘটনা বলে কোনওভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। এর পেছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে বলে মনে করছেন তাঁরা। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।








